চাকরির নামে লক্ষাধিক টাকার আর্থিক প্রতারণার মামলায় ক্রমশই ফাঁস চওড়া হচ্ছে পিংলার প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অজিত মাইতির। বর্তমানে এই মামলায় চার দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন তিনি। এ বার সেই একই মামলায় পুলিশের জালে ধরা পড়লেন অজিতের শ্যালক গোবিন্দ কর, তাঁর গাড়ির চালক অমল ভুঁইয়া এবং পরিচিত প্রণব মণ্ডল ওরফে সাহেব।
বৃহস্পতিবার খড়গপুর লোকাল থানার পুলিশ গোবিন্দকে তাঁর মাদপুরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের দাবি, তল্লাশি চলাকালীন তাঁর বাড়ি থেকে নগদ টাকা-সহ বেশ কিছু সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছে। অন্য দিকে, বুধবার সকালেই অজিতের পরিচিত ফুলগেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রণব মণ্ডলের বাড়িতেও হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, আইসিডিএস-এ চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন অজিত মাইতি। অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৫ সালে তাঁর স্ত্রীর চাকরির জন্য এই বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়া হলেও চাকরি মেলেনি। উল্টে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে রীতিমতো হুমকি দেওয়া হয়। অবশেষে গত ২৬ সেপ্টেম্বর খড়গপুর লোকাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পিংলার একটি পুরনো মামলা থেকে জামিন পেলেও, খড়গপুরে রুজু হওয়া এই নতুন মামলায় গত মঙ্গলবার থেকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন প্রাক্তন ওই বিধায়ক।
বৃহস্পতিবার ধৃত গোবিন্দ, অমল এবং প্রণবকে মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব জানান, চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা এবং টাকা ফেরত না-দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ধারায় রুজু হওয়া মামলায় বিচারক তিন জনকেই দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মৃণাল চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ৩ অক্টোবর অজিত মাইতিকে ফের আদালতে পেশ করা হবে। বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী, ওই দিন পর্যন্তই এই তিন অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে কাটাতে হবে।