বাঙালির যাপনে জড়িয়ে তিনি। সেই প্রাণের ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে শনিবার, ২২ শ্রাবণে দুই জেলার বিভিন্ন অংশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করল প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থা।
পুরুলিয়া শহরে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত হয় রবি স্মরণ অনুষ্ঠান। কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানান জেলাশাসক কোন্তম সুধীর, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী প্রমুখ। হরিপদ সাহিত্য মন্দিরের সৃজনছায়া কক্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাসটির নির্বাচিত অংশ নিয়ে শ্রুতি নাটক হয়। অভিনয় ও কারিগরি সহায়তায় ছিলেন স্বরূপ দত্ত, শম্পা বন্দোপাধ্যায়,তনুশ্রী চন্দ্র, মিলন মাঝি।
রঘুনাথপুর মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে জয়চণ্ডী পাহাড়ের পাদদেশে হয়েছে অনুষ্ঠান। সকালের দিকে শান্তিনিকেতনের ধাঁচে একটি পালকি নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয়। যাত্রা শেষে চারা রোপণ কর্মসূচি হয়েছে। ছিলেন রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামনি বাউরি, মহকুমার (রঘুনাথপুর) ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সন্দীপ্তসুন্দর ভট্টাচার্য, মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক সায়ন ঘোষ, রঘুনাথপুরের রেঞ্জ আধিকারিক নীলাদ্রি সখা, জেলার সহ-কৃষি অধিকর্তা পরিমল বর্মণ, রঘুনাথপুর ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের অধ্যক্ষ স্বামী যোগযুক্তানন্দ। দফতরের উদ্যোগে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা বিলি করেন বিধায়ক। সন্ধ্যায় আদ্রার বাঙালি সমিতিতে আবৃত্তি পরিষদের উদ্যোগে দিনটি পালিত হয়। সংস্থার শিক্ষার্থীরা সঙ্গীত, আবৃত্তি পরিবেশন করেন। রঘুনাথপুর কলেজেও ছিল আয়োজন। মানবাজার পোস্ট অফিস মোড়ে রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ মূর্তিতে ফুল, মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন সংস্থা। গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হয়েছে অনুষ্ঠান।
অন্য দিকে, বাঁকুড়া জেলা গ্রন্থাগারের সভাকক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। বিষ্ণুপুরের রবীন্দ্র সংসদের আয়োজনে রবীন্দ্র স্ট্যাচু মোড়ে হয়েছে কবি প্রণাম অনুষ্ঠান। বিষ্ণুপুর মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে পাঞ্চেত বন বিভাগের অফিস চত্বরে কথায় ও গানে কবিকে স্মরণ করা হয়। সকালের দিকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সমবায়, বন ও পরিবেশ দফতরেরপ্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামী, বিষ্ণুপুরের বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায়-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। বিভিন্ন স্কুল পড়ুয়ারাও যোগ দিয়েছিল।
বিকেলে বিষ্ণুপুর কালচারাল অ্যাকাডেমির উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ‘শ্রদ্ধায় স্মরণে রবীন্দ্র মননে’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সোনামুখী কলেজের বাংলা বিভাগ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গবেষক সুবীরকুমার চৌধুরী। রবীন্দ্র সাহিত্যে মানবতাবাদ নিয়ে আলোচনা করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক শেখ মইনুল হক। ছাত্রছাত্রীরা নাচ-গানে বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য দেন। বড়জোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ছিল অনুষ্ঠান। রাইপুরের চাতরী নিম্ন বুনিয়াদি আবাসিকবিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়।