প্রয়োজন সরকারি সহযোগিতা। যা মিললে পশ্চিমবঙ্গের জেলা স্তরেও এ বার আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করল দেশের একটি বড় বেসরকারি হাসপাতাল গোষ্ঠী। প্রয়োজনে তা পিপিপি মডেলে করতে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানালেন অ্যাপোলো হাসপাতাল গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান, চিকিৎসক প্রতাপ সি রেড্ডি। তবে, এখনই এ রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কোনও পরিকল্পনার কথা তিনি স্পষ্ট করেননি।
সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতিতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সম্মেলনে দেশের অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে হাসপাতাল পরিষেবা বিস্তারের বিষয়ে প্রতাপ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে এখন নতুন সরকার এসেছে। তাদের তরফে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও জমি পেলে জেলা স্তরে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’’ এই প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওদের তরফে প্রস্তাব এলে নিশ্চয়ই আলোচনা করা হবে।’’ দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে অ্যাপোলোর ১০০ শয্যার একটি হাসপাতাল রয়েছে। বাটানগরে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় তা থমকে গিয়ে এখন শুধু বহির্বিভাগ চালু হয়েছে। নতুন সরকারের তরফে সহযোগিতা মিললে প্রথম পর্যায়ে নরেন্দ্রপুর ও বাটানগরে ৫০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে অ্যাপোলো গোষ্ঠীর।
অন্ধ্রের চিত্তুর জেলার আরাগোন্ডা গ্রামে এক সময়ে আধুনিক চিকিৎসা ছিল দূর-অস্ত্। ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবাও মিলত না। নিজের ওই জন্মস্থানে ২০০০ সালে অত্যাধুনিক গ্রামীণ হাসপাতাল তৈরি করেন প্রতাপ। যেখানে শেষ কয়েক বছরে এক হাজার হাঁটু প্রতিস্থাপনের মতো জটিল অস্ত্রোপচারও হয়েছে। রোগী পরিষেবার পাশাপাশি গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভরতার প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে।
দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো পশ্চিমবঙ্গেও ‘আরাগোন্ডা মডেল’ রূপায়ণ করতে চাইছে অ্যাপোলো গোষ্ঠী। তাতে সরকারের তরফে সহযোগিতা পেলে কালবিলম্ব করতে রাজি নন বলেও দাবি প্রতাপের। গ্রামে বা প্রান্তিক এলাকাতেও কলকাতার সমমানের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় একটি সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য বলে দাবি ওই গোষ্ঠীর।