ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নানা কাজে যুক্ত পুরুলিয়া জেলার অ্যাডিশনাল বুথ লেভেল অফিসারেরা এখনও তাঁদের প্রাপ্য সাম্মানিক পাননি বলে অভিযোগ। এই কাজে ছিলেন জেলার বহু শিক্ষক। তাঁদের অভিযোগ, বিএলও-রা সাম্মানিক পেলেও, অ্যাডিশনাল বিএলও-রা এতদিনেও তা পাননি। প্রচণ্ড চাপের মধ্যে তাঁদের কাজ করানোর পরে এখন সাম্মানিক না দেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে অ্যাডিশনাল বিএলও-দের মধ্যে।
সূত্রের খবর, যে সব বুথে ১২০০ বা তার বেশি ভোটার রয়েছে, সেখানে বিএলও-দের সহযোগিতা ও কাজে গতি আনতে ‘অতিরিক্ত বিএলও’ হিসেবে প্রাথমিক ওমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁরা জানান, মূল বিএলও-দের সাথে কাজের ক্ষেত্রে কোনও তারতম্য ছিল না। ফর্ম বিতরণ, বাড়ি-বাড়ি গিয়ে নথি যাচাই, তথ্যের ‘অনলাইন এন্ট্রি’, শুনানির নোটিস পৌঁছে দেওয়া- থেকে নানা কাজ করতে হয়েছে। এমনকি ভোটের আগের দিন ও ভোটের দিন বুথে উপস্থিত থেকে নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেছেন এই অতিরিক্ত বিএলও-রা। তাঁদের আরও দাবি, কোনও কোনও ক্ষেত্রে মূল বিএলও-র চেয়েও বেশি কাজ তাঁদের সামলাতে হয়েছে।
তাঁদের ক্ষোভ, সাম্মানিক কবে মিলবে জানতে চেয়ে অতিরিক্ত বিএলও-রা তাঁদের নিজ নিজ এলাকার ব্লক অফিসে গিয়ে খোঁজ করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনও বরাদ্দ না থাকায় সাম্মানিক দেওয়া যাচ্ছে না।
কাশীপুর ব্লকের এক প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক তথা অতিরিক্ত বিএলও বলেন, ‘‘বিএলও-দের মতো দিন-রাত কাজ করে গেলাম আমরা। অথচ কোনও সাম্মানিক পাওয়া গেল না! বিএলও-রা তাঁদের সাম্মানিক পেলেও সমকাজে সাম্মানিক না পাওয়াটা আমাদের কাছে হতাশাজনক।’’
তবে প্রশাসনের একটি সূত্রের আশ্বাস, অতিরিক্ত বিএলও-দের সাম্মানিক দেওয়ার জন্য আর্থিক বরাদ্দ এখনও আসেনি। এলেই তাঁদের দেওয়া হবে।