৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট এবং ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এ বার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন অনুব্রত মণ্ডল। মঙ্গলবার ঋতব্রত-তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে আবেদন করেছেন। এর আগে গ্রেফতারির আশঙ্কা করে নিম্ন আদালতে আগাম জামিন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ হয়ে গিয়েছে।
গত জুন মাসে অনুব্রত-সহ তৃণমূলের কয়েক জনের বিরুদ্ধে বোলপুরের বাসিন্দা জনৈক শুভেন্দু মণ্ডল পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ৩৫ বছর ধরে তিনি ইটের ব্যবসা চালাচ্ছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান মামন শেখের নেতৃত্বে প্রায় দু’শো জন লোক তাঁর ইটভাটায় চড়াও হয়েছিলেন। ভাঙচুর চলে ইটভাটায়। কর্মী এবং শ্রমিকদের মারধর করা হয়। সেই সঙ্গে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় ইটভাটার মালিক শুভেন্দুকে।
শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, তিনি বিজেপির সমর্থক ছিলেন বলেই এমন আক্রমণ এবং লাঞ্ছনার মুখোমুখি হয়েছেন। তখন পুলিশ তাঁর অভিযোগে ‘সাড়া’ দেয়নি। সরকার বদল হতে অনুব্রতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ওই অভিযোগ নিয়ে অনুব্রত প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। অন্য দিকে, গত রবিবার নানা অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন মামন। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, লুটপাট, ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগ রয়েছে। সোমবার জেলা আদালতে হাজির করানোর সময় মামনকে ডিম ছোড়েন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। আদালত চত্বরে প্রহৃত হন প্রাক্তন পঞ্চায়েত উপপ্রধান।
অন্য দিকে, সিউড়ি জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন অনুব্রত। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত। জেলা আদালত তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দেয়।