এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় যোগসাজশ এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটে সহযোগিতার অভিযোগে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার হন তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি সুব্রত দত্ত। রবিবার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে সুব্রতকে হাফ প্যান্ট পরিয়ে বাজার ঘুরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেল বাঁকুড়ার পাত্রসায়র থানার পুলিশ।
এর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান থেকে পূর্বতন শাসকদলের একের পর এক নেতাকে গ্রেফতার করার পরে হাফ প্যান্ট কিংবা অন্তর্বাস পরিয়ে এলাকা ঘোরানো হয়েছে। এ নিয়ে বিতর্কও হয়েছে বিস্তর। জাহাঙ্গিরের পরিবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলাও করেছিল। আদালতের নির্দেশ ছিল এমন আচরণ করা যাবে না, যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। জাহাঙ্গিরকে প্রকাশ্যে হাফ প্যান্ট পরিয়ে ঘোরানোর বিষয়ে আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে রাজ্য সরকার আশ্বাস দিয়েছিল, আগামী সময়ে ধৃত তৃণমূল নেতার সঙ্গে এমন কোনও আচরণ করা হবে না যাতে তাঁর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। কিন্তু বাঁকুড়ায় আবার একই রকম দৃশ্য চোখে পড়েছে।
গত ৩০ মার্চ বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের থানা এলাকায় এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যু হয়। এলাকার এক যুবক এবং তাঁর মায়ের নাম জড়ায় সেই মৃত্যুতে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেই সময় দোষীদের আড়াল করতে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটান তৃণমূলের তৎকালীন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত এবং তাঁর স্ত্রী, পাত্রসায়র পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী দত্ত মল্লিক। রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা মৃতার পরিবারকে অভিযোগ জানাতে বাধা দিয়েছিলেন, এমন অভিযোগও করা হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর মৃতার পরিবার দাবি করে, মেয়ের দেহের ময়নাতদন্ত না করিয়ে সৎকার করতে বাধ্য হয়েছিল তারা। পাত্রসায়র থানায় সুব্রত এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
আরও পড়ুন:
তদন্তে নেমে প্রথমেই অভিযুক্ত যুবক এবং তাঁর মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রমাণ লোপাটে সহযোগিতা এবং মৃতার পরিবারকে অভিযোগ করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পরে গ্রেফতার হন পূরবী। গত মঙ্গলবার একই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতিকেও। বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতের নির্দেশে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন তিনি।
রবিবার দুপুরে ধৃত সুব্রতকে নিয়ে নাবালিকার মৃত্যুর মামলায় পুনর্নির্মাণে বার হয় পুলিশ। প্রথমে ধৃত তৃণমূল নেতাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাত্রসায়র ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেই সময় রাস্তায় বিশাল পুলিশবাহিনী নামে। ধৃতের পরনে ছিল টি-শার্ট এবং হাফ প্যান্ট। পায়ে চপ্পল। তাঁর হাত ধরে ছিলেন এক পুলিশকর্মী। সামনে-পিছনে আরও পুলিশকর্মী। দৃশ্যত প্যারেড করিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ধৃতকে।
পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফি হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। কিন্তু পুনর্নির্মাণে কেন অভিযুক্তকে হাফ প্যান্ট পরানোর প্রয়োজন হল, সেই ব্যাখ্যা মেলেনি।