প্রবল বৃষ্টিতে বুধবার বোলপুরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড জলের তলায় চলে গিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার তৃতীয় সিমেস্টার। সে সময়ে এমন পরিস্থিতি হলে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা বা পরীক্ষাকেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার তৃতীয় সিমেস্টার নিয়ে এ দিন সিউড়ির রবীন্দ্রসদন হলে প্রস্তুতি বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সূত্রের খবর, পরীক্ষার যাবতীয় খুঁটিনাটি নিয়ে এ দিনের বৈঠকে আলোচনা করা হয়। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা হবে। এ বার ২৯টি মেন ভেন্যু এবং ৬১টি সাব-ভেন্যু নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পানীয় জল, উপযুক্ত আলো এবং পরিচ্ছন্ন শৌচালয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় রোল নম্বর অনুযায়ী সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি কেন্দ্রের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ভাবে সংরক্ষণ করে রাখতে বলা হয়েছে।
সেপ্টেম্বর জুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে যাতে পরীক্ষা ব্যাহত না হয়, সে জন্যও আগাম প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। প্লাবিত এলাকার পরীক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প কেন্দ্রের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে তাঁদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। জেলা ও মহকুমা স্তরে কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন নম্বরও সক্রিয় থাকবে। শিক্ষক ঘাটতি মেটাতে প্রয়োজনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও এ বার ইনভিজিলেটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
পরীক্ষায় নিয়মভঙ্গ রুখতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির পর পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হবে। মোবাইল ফোন বা কোনও বৈদ্যুতিন গ্যাজেট ব্যবহার, পরীক্ষককে শারীরিকভাবে আঘাত করা কিংবা পরীক্ষা হলের আলো, পাখা ও বেঞ্চ ভাঙচুরের মতো ঘটনায় জড়িত পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
কেন্দ্রে কোনও অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটলে তা সরাসরি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সেন্টার ইনচার্জ ও ভেন্যু সুপারভাইজারদের প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছনো থেকে শুরু করে উত্তরপত্র সংসদে পাঠানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বৈঠকের আয়োজক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাস্কর মণ্ডল।
উচ্চ মাধ্যমিকের জেলা অ্যাডভাইজারি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বামাচরণ রায় বলেন, “সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করতে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সে নিয়েই আলোচনা সভাটি হয়েছে।"