জাতীয় স্তরের তিরন্দাজি প্রতিযোগিতায় ছ’টি পদক জিতে নজির গড়লেন বরাবাজারের রানসি গ্রামের বাসন্তী মাহাতো। এর আগেও জাতীয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সফল হয়েছেন তিনি। তাঁর সাফল্যে আরও এক বার গর্বিত পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল।
পেশায় সিআইএসএফ কর্মী বাসন্তী সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের রাঁচির খেলগাঁওয়ে ১৫তম সর্বভারতীয় পুলিশ তিরন্দাজি প্রতিযোগিতায় যোগ দেন। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত প্রদর্শন করে তিনি জিতেছেন চারটি স্বর্ণ, একটি রুপো ও একটি ব্রোঞ্জ পদক। তাঁর কথায়, “পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীতে কর্মরত তিরন্দাজদের মাঝে আমি পদক ছিনিয়ে নিতে পারব বলে ভাবিনি।” জেলার জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রামের অতি সাধারণ ঘরের মেয়ে ২১-এর বাসন্তী। বাড়ির অভাব-অনটনের মধ্যেও ছোট থেকে যত্নে লালন করেছেন তিরন্দাজ হওয়ার স্বপ্ন। ২০১৮ সালে বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বরাবাজারের তিরন্দাজি অ্যাকাডেমি ‘লক্ষ্য’-তে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন। পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৯-এ স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার সল্টলেক কেন্দ্রে প্রশিক্ষণেরসুযোগ পান।
দেশের মাটিতে সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও লক্ষ্যভেদ করেছেন তরুণী। ২০২৫ সালে এশিয়া কাপে সিনিয়র রিকার্ভের ব্যক্তিগত বিভাগে সোনা, দলগত বিভাগে রুপোর পদক জেতেন। ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে ভারতের হয়ে দলগত বিভাগে ব্রোঞ্জ জেতেন। ওই বছরই চিনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ইয়ুথ আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর ঝুলিতে আসে দু’টি রুপোর পদক। গত বছর স্পোর্টস কোটায় সিআইএসএফ-এ যোগ দেন বাসন্তী। সব রকম প্রতিকূলতাকে জয় করে আরও লক্ষ্যভেদকরতে চান তরুণী।