তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলগুলির নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। হোটেলগুলি নিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারি সমস্ত নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন রামপুরহাটের মহকুমাশাসক রাঠৌর অশ্বন বাবুসিংহ। নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ১৫টি হোটেল এবং লজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে জেলাস্তরে একটি বৈঠক হয়েছে মঙ্গলবার। সেই বৈঠকে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা এবং হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কী কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহকুমাশাসক। তিনি জানান, এই সব দিক খতিয়ে দেখার জন্য পাঁচটি দল গঠন করা হয়েছে। সেই দলে থাকবেন দমকল, বিদ্যুৎ দফতর এবং পূর্ত দফতরের কর্মীরা। থাকবে পুলিশও। এই দলগুলি হোটেলে হোটেলে গিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই কাজ শেষ করা হবে।
মহকুমাশাসক আরও জানিয়েছেন, এর আগেও বেশ কয়েকটি হোটেলকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। নিরাপত্তা সংক্রান্ত খামতি থাকার কারণে সেই হোটেলগুলিকে নোটিস পাঠানো হয়। কিন্তু তারা কোনও রকম সহযোগিতা করেনি। এ বার আরও ১৫টি হোটেলকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেই হোটেল এবং লজগুলিকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারাপীঠের দুর্ঘটনার পর আরও কড়া পদক্ষেপ করা শুরু হল হোটেলগুলির বিরুদ্ধে। নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে কোনও ভাবেই আপস করা হবে বলেও জানিয়েছেন মহকুমাশাসক।
হোটেলের কর্মী এবং ম্যানেজারদের নিয়ে একটা মহড়ার আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছেন মহকুমাশাসক। এটা করা হবে কৌশিকী অমাবস্যার আগেই। দমকলের কর্মীরা তাঁদের প্রশিক্ষণ দেবেন। আগুন লাগলে কী ভাবে তা নেবানোর জন্য প্রাথমিক ব্যবস্থা নেবেন। উল্লেখ্য, সোমবার তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় ৯ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই হোটেলগুলির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোন কোন হোটেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় খামতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ করা শুরু করল জেলা প্রশাসন।
অন্য দিকে, তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধৃত হোটেলমালিক ও তাঁর ছেলেকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল রামপুরহাট মহকুমা আদালত। সোমবার ভোরে তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় ন’জন আবাসিকের মৃত্যু হয়। ওই দিনই হোটেলের মালিক প্রবীর পাল ও তাঁর ছেলে কল্যাণআশিস পালকে গ্রেফতার করে তারাপীঠ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতদের রামপুরহাট মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। তদন্তের স্বার্থে ধৃত দু’জনকেই ১৪ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ধৃত দু’জনকেই সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে রামপুরহাট মহকুমা আদালত।