সোমবার গণেশ পুজো, ওই সপ্তাহেই বিশ্বকর্মা পুজো, তার মাসখানেকের মধ্যেই এসে পড়বে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। উৎসবের এই ভরা মরসুমে যখন মৃৎশিল্পীদের সব থেকে ব্যস্ততার সময়, তখনই তাঁদের কপালের চিন্তা ভাঁজ ফেলেছে মধ্য অগস্ট থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া। সিউড়ি ও তার আশপাশের এলাকার মৃৎশিল্পীদের কাজ এখন কার্যত বিশ বাঁও জলে। নির্দিষ্ট সময়ে ঠাকুরের বরাত বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।
অগস্ট শেষ হয়ে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও জেলায় বৃষ্টির ছবি একই আছে। কখনও সকালে সামান্য রোদ উঠলেও, দুপুর গড়াতেই মেঘ ঘনিয়ে শুরু হচ্ছে বৃষ্টি। রোদের অভাব এবং বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতায় প্রতিমার গায়ে রঙের প্রলেপ দেওয়া ও তা শুকোনোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। বৃষ্টি আশঙ্কায় প্লাস্টিকের মোড়ক সরিয়ে মূর্তিগুলো বাইরের হাওয়ায় খানিকক্ষণ রাখতেও সাহস পাচ্ছেন না শিল্পীরা।
প্রাকৃতিক উপায়ে রং না শুকানোয় বাধ্য হয়ে কাঠকয়লার আগুন বা ফ্লেম গান ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন শিল্পীরা। সিউড়ি ২ ব্লকের ইন্দ্রগাছা গ্রামের মৃৎশিল্পী মেঘনাদ পাল, সিউড়ির পুলিশ লাইনের সমীর পাল এই পথই অবলম্বন করছেন নিরুপায় হয়ে। তবে এই পদ্ধতি একেবারেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। ফ্লেম গান বা আগুনের অতিরিক্ত তাপে প্রতিমার রং ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। তবুও কাজ তো এগোতেই হবে।
শুধু প্রতিমা তৈরিই নয়, মণ্ডপ পর্যন্ত পৌঁছনো নিয়ও আছে দুশ্চিন্তা। বিশ্বকর্মা মূর্তি অনেকেই খোলা বাজারে সাজিয়ে বিক্রি করেন। কিন্তু এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রাস্তায় প্রতিমা বের করা বেশ সমস্যার। সমীর পাল বলেন, “গণেশ মূর্তিগুলি প্লাস্টিকের বাইরে বের করতে পারছি না। তিনটে মূর্তির হাত নষ্ট হয়েছে জলে।” একই কথা মেঘনাথ পালেরও। তিনি বলেন, “কী ভাবে সময়ে কাজ শেষ হবে জানি না।”