Advertisement
E-Paper

কোটি কোটি টাকা! এখনও গোনা চলছে! বীরভূমের বাসচালকের বাড়িতে ১৫ কেজি সোনাও পেল পুলিশ, জানালেন শুভেন্দু স্বয়ং

মঙ্গলবার গভীর রাতে আচমকাই টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। রাত থেকে শুরু হয় তল্লাশি। তাতেই ধরা পড়ে কোটি কোটি টাকা এবং কেজি কেজি সোনা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১১:০৫
Crores of money recovered from stone quarry owner’s relative house

উদ্ধার হওয়া টাকা গুনছেন পুলিশকর্মীরা। —নিজস্ব চিত্র।

আবার কোটি কোটি টাকা। এ বার বীরভূমের মহম্মদবাজার। অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের এক আত্মীয়ের বাড়িতে এখন সেই টাকা গোনা চলছে। শুধু টাকা নয়, কেজি কেজি সোনাও উদ্ধারও হয়েছে। এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, সরকারি সম্পতি বা জনগণের টাকা লুট করে যাঁরাই বিপুল সম্পত্তি করেছেন, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। তিনি জানান, ওই বাড়ি থেকে ১৫ কেজি সোনা পাওয়া গিয়েছে। বুধবার রাতে বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ জানান, ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ টাকার পরিমাণ ২৮.৫ কোটি। উদ্ধার হওয়া অর্থ টুলুরই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই বাড়িটিতে হানা দেয় পুলিশ। রাত পেরিয়ে সকাল হলেও, সূত্রের খবর, থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল পাওয়া গিয়েছে। ঠিক কত টাকা রয়েছে, তা গুনতে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি নোট গোনার যন্ত্র আনা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আনা হয়েছে বড় বড় ট্রাঙ্কও।

রাতে আচমকাই মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকায় টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের হানা বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। এই প্রতিবেদন লেখার সময়েও তাঁর বাড়িতে রয়েছে পুলিশের বড় দল। চলছে তল্লাশি অভিযান। সূত্রের খবর, ওই বাড়ি থেকে শুধু টাকা নয়, সোনাও উদ্ধার হয়েছে। সূত্রের খবর, বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি টাকা গোনা হয়েছে। সেই গোনার কাজ এখনও চলছে। ফলে উদ্ধার হওয়ার টাকার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তবে পুলিশ এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মিনার পেশায় একজন সরকারি বাসের চালক। সেই সঙ্গে পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তিনি। টুলুর একাধিক খাদানের সঙ্গেও ওতপ্রোত ভাবে জড়িত মিনার। তবে এত টাকা এল কোথা থেকে, টাকার উৎস কী, কোনও বেআইনি পথে আয় কি না— তা এখনও স্পষ্ট নয়। তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।

বীরভূমে পরিচিত মুখ টুলু। একসময় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি পাথর খাদান চালানোর অভিযোগ রয়েছে। গরুপাচার মামলাতেও নাম জড়িয়েছিল টুলুর। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির নজরে ছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর বাড়ি এবং অফিসে হানা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই টুলুর আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দিল পুলিশ। উদ্ধার হওয়া টাকার সঙ্গে টুলুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।

টাকা উদ্ধারের ঘটনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না। শুধু তা-ই নয়, পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানাও করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের জ়িরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।’’ তাঁর সতর্কবার্তা, অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে বা সরকারি সম্পদ লুট করে বা তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আঁতাঁত করে যাঁরা সম্পত্তি গড়ে তোলেন— তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না।

টাকা উদ্ধারের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে বিজেপি। সাঁইথিয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা বলেন, ‘‘রাজ্যে পরিবর্তন হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, সিন্ডিকেটরাজ বন্ধ হচ্ছে। যাঁরা বলেছিলেন খেলা হবে, তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন কী খেলা হচ্ছে। আমি মনে করি, দুর্নীতিতে জড়িত টাকা উদ্ধার হোক। সেই টাকা মানুষের কাজে ব্যবহার করা হোক।’’

cash recovered Birbhum

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy