কোন স্কুলের পোশাকের রং কী ছিল সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হল।
জানা গিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়াদের পোশাকের জন্য কোন স্কুলে কাপড় প্রয়োজন তা খতিয়ে দেখতে জেলাভিত্তিক সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সরকারি ভাবে। তারই অঙ্গ হিসেবে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের তরফে বুধবার প্রতিটি স্কুলের কাছে গুগল শিট পাঠানো হয়েছে। ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই ফর্ম পূরণের নির্দেশ রয়েছে।
বিষয়টিতে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন জেলার স্কুল শিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, নতুন সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে গত সরকারের স্কুলের পোশাক বিধি চাপিয়ে দেওয়ায় সম্ভবত ইতি ঘটতে চলেছে। প্রসঙ্গত, তৃণমূল সরকারের আমলে ২০১৩ সাল থেকে সব স্কুলের পোশাক নীল-সাদা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ২০২২ থেকে সরকার পোষিত স্কুলগুলির পোশাকও বাধ্যতামূলক ওই রং হয়। স্কুলের ব্যাজে বিশ্ববাংলার লোগো জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।জেলার স্কুলশিক্ষকদের দাবি, এর ফলে স্কুলের নিজস্ব পোশাক থাকলেও, তা বাদ দিয়ে স্কুলের পোশাকের রং বদলাতে হয়েছিল।
জেলা স্কুল শিক্ষা দফতরের কর্তাদের একাংশ জানান, নির্দেশ ছিল ২০২২ সালের আগে স্কুলগুলির ইউনিফর্ম কী ছিল সে সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে স্কুলে পৌঁছনো ফর্মে ২২ সালের কথা উল্লিখিত নয়। স্কুলের হাতেই তা ছাড়া হয়েছে। স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী কত, তাদের শার্ট, প্যান্ট, স্কার্ট, দোপাট্টার রং জানতে চাওয়া হয়েছে।
মহম্মদবাজারের একটি মেয়েদের স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, “আমাদের স্কুলে সাদা শার্ট ও লাল স্কার্ট ছিল। বিগত সরকারের আমলে তা বদলাতে হয়েছে। সরকারি ভাবে যে তথ্য চাওয়া হয়েছে তাতে সেটাই উল্লেখ করব।” একই বক্তব্য ওই ব্লকের আর একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের। তিনি বলছেন, “আমাদের ছাত্রদের প্যান্টের রং ছিল ঘন খয়েরি।বাধ্য হয়ে নীল-সাদা করতে হয়েছে।” দুবরাজপুর শহরের একটি মেয়েদের স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাও জানান, তাঁদের ছাত্রীদের পোশাক লাল-সাদা। গত সরকারের আমলে নিজস্বতা হারানোর কথা ভেবে সেটা বদলায়নি। গুগল ফর্মে লাল-সাদাই উল্লেখ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, স্কুল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপরে ভিত্তি করেই ‘মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ়েস অ্যান্ড টেক্সটাইলস’ দফতর কাপড়ের প্রয়োজনীয়তা ও রঙের বৈচিত্র হিসাব করা হবে।
প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের অরাজনৈতিক সংগঠন অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস-এর জেলা সভাপতি নিত্যানন্দ বারুই বলেন, “বিভিন্ন স্কুলে বিভিন্ন পোশাক বিধি চালু ছিল, রং নির্বাচনের নেপথ্যে বিশেষ ঐতিহ্য জুড়ে থাকতে পারে। এক ধরনের ইউনিফর্মে নির্দিষ্ট স্কুলের স্বকীয়তা খর্ব হয়। সেদিক থেকে দেখলে ইতিবাচক। তবে এক ধরনের ইউনিফর্মের সুবিধা হল বিভেদ মুছে যায়। এখন সবটাই সরকারের সিদ্ধান্ত।”