সাঁওতালি মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং সাঁওতালি শিক্ষা বোর্ড গঠনের দাবিতে রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিল পশ্চিমবঙ্গ সাঁওতালি শিক্ষার অধিকার রক্ষা মঞ্চ। সোমবার সংগঠনের তরফে রানিবাঁধে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে দু’টি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। একটি স্মারকলিপি উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংগঠনের দাবি, ২০০৮ সাল থেকে প্রাথমিক স্তরে এবং ২০১১ সাল থেকে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে সাঁওতালি মাধ্যমে পঠন-পাঠন চলছে। পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পেরিয়ে কলেজ স্তরেও সাঁওতালি মাধ্যমে একাধিক বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, ২০১৮ সালে প্রথম সাঁওতালি মাধ্যমে পড়ুয়ারা মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে। ২০২০ সাল থেকে কলেজে কয়েকটি বিষয়ে বিএ ও বিএসসি কোর্স চালু হয়। পরে পড়ুয়ারা স্নাতকোত্তর স্তরেও ভর্তি হয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
তবে এত বছর ধরে সাঁওতালি মাধ্যমে পঠন-পাঠন চললেও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি ও শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাব মেটানো যায়নি বলে দাবি সংগঠনের। তারা জানায়, বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনা করা পড়ুয়ারা মাতৃভাষায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাঁওতালি মাধ্যমে অলচিকি লিপিতে ইতিহাস, ভূগোল, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা ও গণিতের মতো বিষয়ে বিএড কোর্স চালুর দাবি জানায় সংগঠন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণকুমার সরেনের কথায়, “মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ তৈরি না হওয়ায় সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনা করা বহু পড়ুয়া উচ্চশিক্ষায় সমস্যায় পড়ছেন। তাই আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।” মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, “দাবিগুলি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হবে। উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত দাবিগুলির বিষয়েও দফতরকে জানানো হবে।”
জোড়া সাপ উদ্ধার
রঘুনাথপুর: লোকালয় থেকে উদ্ধার হল বিষধর ও বিষহীন সাপ। বন দফতর জানায়, সোমবার দুপুরে রঘুনাথপুর শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ব্লকডাঙায় একটি বাড়ির সামনে দেখা যায় একটি গোখরো। বনকর্মীরা গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন। তার আগে এ দিন সকালে কাশীপুরে একটি বাড়িতে দেখা যায় প্রায় সাড়ে ন’ফুটের একটি ময়ালকে। খবর পেয়ে গিয়ে বনকর্মীরা সেটিকেও উদ্ধার করেন। সাপ দু’টিকে পর্যবেক্ষণে রাখার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।