দীর্ঘ অন্ধকারের পরে যেন একটু আশার আলো। নেপালের রাসুয়ায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে অক্ষত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধারের পরে আশায় বুক বাঁধছে বাঁকুড়ার ইঁদপুরের অশোক পালের পরিবার। ওই এলাকারই এক প্রকল্পে সুপারভাইজ়ার হিসাবে কর্মরত অশোক হড়পা বানের বিপর্যয়ের পরে থেকে নিখোঁজ। অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসবেন অশোকও, দিন গুনছেন তাঁর পরিবার থেকে পড়শিরা।
বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপর্যয়ের ন’দিন পরে ত্রিশূলীর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা থেকে দু’জনকে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে। তাঁরা হলেন কবীর মহারাজন ও সঞ্জয় শাহ। সঞ্জয় নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির এক জন ‘মেকানিক্যাল ফোরম্যান’। আর মহারাজন ত্রিশূলী-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারভাইজ়ার হিসেবে কর্মরত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই ত্রিশূলী-৩ এ সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজ চলাকালীন ভেতর থেকে আরও কয়েক জনের কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছে। ওই এলাকার বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বহু শ্রমিক এখনও নিখোঁজ। তাঁদের অনেকে সুড়ঙ্গে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে অশোকের পরিবারে। তাঁর ভগ্নীপতি বর্ধমানের লাকুর্ডির বাসিন্দা সঞ্জয় দাস বলেন, “নেপালের সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, দুর্ঘটনার দিন সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে অশোকের ফোনের টাওয়ার লোকেশন পাওয়া গিয়েছিল ত্রিশূলী এলাকায়। তার পরে সংযোগ ছিন্ন হয়।” তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
দু’জনের উদ্ধার ও সুড়ঙ্গে কণ্ঠস্বর শোনার খবরে পেয়েছেন অশোকের মা লক্ষ্মীরানিও। তিনি বলেন, “অলৌকিকের আশায় রয়েছি আমরা। সেই আশায় প্রহর কাটছে।” অশোকের স্ত্রী জবা বলেন, “অবশেষে যেন আশার আলো দেখা গেল। ঠিকমতো বাড়ি ফিরে আসুক, সেই প্রার্থনাই করে চলেছি।”