কালো করে আসছে আকাশ, তার পরেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামছে। শ্রাবণের শুরুতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন ধারাপাতেও বৃষ্টির ঘাটতি মেটেনি। যা কিছুটা হলেও চিন্তায় রেখেছে কৃষি আধিকারিক ও চাষিদের।
জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জুনে গড় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৩৪.২ মিলিমিটার। কয়েকটি ব্লক ব্যতিক্রম হলেও জুনে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের এক তৃতীয়াংশ বৃষ্টি পেয়েছে জেলা। জুলাইয়ে স্বাভাবিক বৃষ্টি ৩২৪ মিলিমিটার। বুধবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত জেলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১১৩ মিলিমিটার। এখনও মাস শেষ হতে আট দিন বাকি। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় গড় বৃষ্টিপাত ২০ মিলিমিটার। আবহাওয়া দফতর দক্ষিণবঙ্গের জেলা বীরভূমে দিন কয়েক বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।তবে জেলায় বৃষ্টিপাতে এখনওযথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে জানাচ্ছে কৃষি দফতর।
কৃষি আধিকারিকেরা জানান, এই সময়ে বৃষ্টির ভীষণ প্রয়োজন। গোটা শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহই ধান রোপণের সেরা সময়। সময়কাল জুলাই শেষ পনেরো দিন থেকে অগস্টের শেষ পর্যন্ত। ধান রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে জোরালো বৃষ্টি না হলে অনেক জমি (বিশেষ করে উঁচু জমি) অনাবাদী থাকতে পারে।
জেলায় এবার প্রায় তিন লক্ষ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কৃষি দফতর। কিন্তু বৃষ্টি তুলনায় কম হলে চাষিরা যাতে সঙ্কটে না পড়েন তার জন্য বিকল্প রাগি চাষের পরামর্শ ও বীজ সরবরাহ করা হয়েছে বিভিন্ন ব্লকে। রাগি দেখতে অনেকটা পরিচিত ঘাসের মতো। পরিণত হলে লম্বা শিসের আগায় পুঞ্জীভূত বীজ বা শস্য মেলে সেটাই রাগি বা মিলেট নামে পরিচিত। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই শস্যের দরও ধানের থেকে বেশি।
জেলা কৃষি দফতর চলতি বছরে ৪০০ হেক্টর জমিতে রাগি চাষের লক্ষ্য নিয়েছে। তবে চাষিরা এখনও রাগি চাষে তেমন সাড়া দেখাননি।