সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে ডেঙ্গির সতর্কতা হিসাবে স্কুলের ছাত্রীদের সালোয়ার ও ছাত্রদের ফুলপ্যান্ট পরার অনুরোধ করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মন্ত্রীর এই আবেদন যুক্তিযুক্ত বলেই মনে করছে শিক্ষক মহল। একই সঙ্গে বিদ্যালয় চত্বরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে যথাযথ ‘কম্পোজ়িট গ্রান্ট’ দেওয়ারও দাবি তুলেছে এবিটিএ।
হাঁটু থেকে পায়ের একটা বড় অংশ অনাবৃত থাকলে মশার কামড়ে বিপদ বাড়তে পারে, এ কথা মনে করিয়েই ওই অনুরোধ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা চিকিৎসক শারদ্বত। লম্বা মোজা পরলেও তা পাতলা হওয়ায় সুরাহা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকারা অবশ্য জানাচ্ছেন, পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির মেয়েদের স্কুলের পোশাকে স্কার্ট থাকলেও তারা নীচে মোটা লেগিঙ্গস পরে আসে।
বড়জোড়ার একটি বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপাল বলেন, ‘‘আমরা অভিভাবকদের ইতিমধ্যেই জানিয়েছি, ছাত্রীরা প্রয়োজনমতো স্কার্টের নীচে লেগিঙ্গস ও ছাত্ররা ফুলপ্যান্ট পরতে পারে।’’ বাঁকুড়ার এক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার কথায়, ‘‘নিচু ক্লাসের ছাত্রীরা এমনিতেই স্কার্টের নীচে লেগিঙ্গস পরে আসে। আর সপ্তম শ্রেণি থেকে সবাই সালোয়ার-কামিজ পরে।ছাত্রীদের জুতো-মোজা পরে আসাতেও জোর দেওয়া হয়েছে।’’ পাত্রসায়েরর একটি স্কুলের অভিভাবক তপন দিগেরও জানালেন, সরকারি স্কুলগুলিতে প্রায় সবাই সালোয়ার, লেগিঙ্গস, ফুলপ্যান্ট পরে। তবে বেসরকারি ও নার্সারি স্কুলের বাচ্চাদের বিষয়টিও নজর দেওয়া দরকার বলে দাবি উঠেছে।
অখিল ভারতীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি ভগীরথ পালের বক্তব্য, ‘‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আবেদনকে স্বাগত জানাচ্ছি। বেশিরভাগ স্কুলেই ছাত্রেরা ফুলপ্যান্ট ও মেয়েরা সালোয়ার বা স্কার্টের সাথে লেগিঙ্গস পরে।ডেঙ্গি প্রতিরোধে সকলের সচেতন থাকা উচিত।’’ তবে শুধু স্কুলপোশাকে নজর নয়, স্কুল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও যে মশাবাহী রোগ প্রতিরোধে জরুরি, মনে করিয়েছেন এবিটিএ-র বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক পরেশ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‘ডেঙ্গি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আবেদন অবশ্যই মানা উচিত। তবে ছাত্রছাত্রীদের ভাল মানের সুতির পোশাক দেওয়া হোক। এর আগে যে পোশাক দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট নিম্নমানের। তাছাড়া স্কুলগুলিকে কম্পোজ়িট গ্রান্ট ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। যা পাওয়া উচিত তার ২৫ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে যে অর্থ দরকার, সেটাও দেওয়া হোক।