মন্দির সংস্কারের কাজ শেষে তারাপীঠে আগামী চতুর্দশী তিথিতে পুনরায় গর্ভগৃহের মন্দিরে ফেরানো হবে দেবী তারাকে। তারাপীঠ মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবমন্দিরে দেবীর পুজার্চনা, আরতি ও দর্শনার্থীদের পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। সে ক্ষেত্রে শিবমন্দিরে একটি প্রবেশপথ হওয়ার জন্য দর্শনার্থীদের পুজো দিতে সময় লাগছিল। চতুর্দশী তিথিতে দেবীর আর্বিভাব তিথিতে মূল মন্দিরে দেবীকে নিয়ে আসা হলে দর্শনার্থীদের সুবিধে হবে। কৌশিকী অমাবস্যার পরে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত দশটার পরে তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে মন্দির চত্বরের শিব মন্দিরে দেবীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানান, মন্দিরের সংস্কারের জন্য বাইরের প্রযুক্তিবিদদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। ওই সমস্ত প্রযুক্তিবিদদের পরামর্শ নিয়ে মন্দিরের ভিতরে এবং বাইরে সংস্কার করা হয়েছে। মূলত মন্দিরের সামনে নাটমন্দির থেকে যাতে দর্শনার্থীরা দেবীর দর্শন পান সেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার পরে মূল মন্দিরের অভিষেক করে পুজার্চনা হওয়ার পরে দেবীকে ফের মূল মন্দিরে নিয়ে আসা হবে। মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মন্দিরের সামনে দরজা এক ফুট ও দেবীর বেদী আট ইঞ্চি উঁচু করা হয়েছে। এতে নাটমন্দির থেকে দর্শনার্থীদের দেবীর দর্শন পেতে সুবিধে হবে।’’
তারাপীঠ নিয়ে একাধিক গ্রন্থের লেখক তথা তারাপীঠের বাসিন্দা প্রাক্তন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী প্রবোধ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ১৮১৮ খ্রীষ্টাব্দে মল্লারপুরের জমিদার জগন্নাথ রায় আজকের এই তারাপীঠ মন্দির প্রতিষ্টা করেছিলেন। ১৮১৮ সাল থেকে এই মন্দিরে দেবী পূজিতা হয়ে আসছেন। মাঝে মাঝে মন্দিরের রং যখন বিবর্ণ হয়ে যায় তখন সংস্কারের প্রয়োজন পড়ে। মন্দির কমিটি কিংবা ভক্তদের দানে দেবীর মন্দিরের সংস্কার করা হয়ে থাকে।
প্রবোধ বলেন, ‘‘বছরের একটি দিন দেবীর আর্বিভাব তিথি উপলক্ষে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর আগের দিন শুক্লা দ্বাদশীর রাতে দেবীকে মন্দির চত্বরের বিরাম মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সারাদিন পুজো হয়ে থাকে। এ ছাড়া রথের দিন দেবীকে মূল মন্দির থেকে বাইরে নিয়ে এসে দেবীর রথযাত্রা করা হয়। এ বারেও চতুর্দশীর দিন দেবীকে রীতি অনুযায়ী বিরাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। পরে মূল মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হবে।’’