দিন কয়েক আগে বাড়ির পাশের একটি কুয়ো থেকে দেড় বছরের এক শিশুর দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এক যুবককে গ্রেফতারও করে পুলিশ। যদিও ধৃতের সঙ্গে শিশুমৃত্যুর কোনও যোগের প্রমাণ পাননি তদন্তকারীরা। পরে তদন্তে উঠে আসে মৃত শিশুর দাদুর নাম। পুলিশ সূত্রে খবর, দাদুই তাঁর নাতিকে ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ওই কুয়োয় ফেলে দেন। জলে ডুবে মৃত্যু হয় ওই শিশুর।
ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, কয়েক দিন আগে ওই এলাকার এক শিশুর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কী ভাবে ওই শিশু কুয়োয় পড়ে গেল, তা নিয়ে রহস্য ঘনায়। মৃতের মায়ের অভিযোগ, এক প্রতিবেশী যুবক তাঁর সন্তানকে কুয়োয় ফেলে দিয়েছেন। পুরনো বিবাদের জেরেই শিশুটিকে খুন করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ওই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তবে তদন্তে নেমে ওই শিশুমৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে ধৃত যুবকের কোনও যোগের প্রমাণ পায়নি পুলিশ। ঘটনাস্থলে কুকুর নিয়ে আসে তারা। সেই সূত্র ধরে ওই শিশুর দাদু রাজেন প্রামাণিকের উপর সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। সেই সন্দেহে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সূত্রের খবর, জেরার সময় রাজেনের বয়ানে অসঙ্গতি খুঁজে পান তদন্তকারীরা। তার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন:
তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ওই পরিবারে অতীতে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ওই বাড়িতে তন্ত্রসাধনার চল আছে। রাজেনই বাড়িতে নানা ধরনের তন্ত্রসাধনা করেন। তদন্তকারীদের অনুমান, তন্ত্রসাধনার কারণেই দেড় বছরের শিশুকে কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ এই বিষয়টা আরও খতিয়ে দেখছে। শিশুমৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যে আর কেউ জড়িত কি না, তা-ও দেখছেন তদন্তকারীরা।