E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

রবি কর খুনে নাম জড়ায় আকাশের

পুরুলিয়া জেলা পুলিশ ও মাওবাদী দমনে বিশেষ প্রশিক্ষিত স্ট্র্যাকো বাহিনী যৌথ তল্লাশি চালায় বান্দোয়ানের জঙ্গলে।

শুভ্রপ্রকাশ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪৯
মাওবাদী নেতা আকাশ।

মাওবাদী নেতা আকাশ। ফাইল চিত্র।

ঝাড়খণ্ডের দলমা জঙ্গলের গোপন ডেরা থেকে নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা আকাশ ওরফে অসীম মণ্ডল। মাওবাদী স্কোয়াডের ধৃত সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পরে এমন তথ্য পেয়েই রাজ্যের গোয়েন্দারা অনুমান করেন, আকাশের গন্তব্য পশ্চিমবঙ্গ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদেনীপুরের পটাশপুর থেকে আকাশকে ধরেছে রাজ্যের এসটিএফ।

ঝাড়খণ্ডে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অপারেশনের তীব্রতাতেই আকাশ যে আর সে রাজ্যে আশ্রয় নেবেন না, তা প্রায় নিশ্চিত ছিল রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ। ফলে, সে পুরুলিয়ায় কোনও ভাবে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে সম্ভাবনা ছিল। সূত্রের খবর, কয়েকমাস আগে কয়েকজন স্কোয়াড সদস্যকে নিয়ে বান্দোয়ানের কাছে ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া ঠরকাদহ গ্রামের পাশেই ঝাড়খণ্ডের কোনও গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলেন আকাশ। সেখান থেকেই ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায় সংগঠন গোছানোর কাজ শুরু করতে চাইছিলেন।

তখন পুরুলিয়া জেলা পুলিশ ও মাওবাদী দমনে বিশেষ প্রশিক্ষিত স্ট্র্যাকো বাহিনী যৌথ তল্লাশি চালায় বান্দোয়ানের জঙ্গলে। ছিলেন বাঁকুড়ার ডিআইজি অভিষেক মোদী, পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজেরা। দলমা এলাকাতেও আকাশের সন্ধানে তল্লাশি অভিযানের তীব্রতা বাড়িয়েছিল যৌথ বাহিনী। চাপে পড়েই দলমা রেঞ্জ ছাড়েন ষাটোর্ধ্ব আকাশ। মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ করাতে ঝাড়খণ্ড সরকারের বিশেষ কর্মসূচিতেও সাড়া দেননি তিনি। উল্টে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারে অনড় ছিলেন।

আদতে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার বাসিন্দা আকাশ ওরফে অসীম মণ্ডল একদা মাওবাদী রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব সামলান। বাম আমলে বান্দোয়ানে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সিপিএমের রবীন্দ্রনাথ কর ও তাঁর স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে। লালগড়ে আন্দোলনেও অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। তবে শীর্ষ মাওবাদী নেতা কিসেনজি ওরফে কোটেশ্বর রাওয়ের মৃত্যুর পরে বাংলা ছেড়ে লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূমে আকাশের সক্রিয়তা বাড়ে।

সূত্রের খবর, ঘাঁটি গেঁড়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের সারেন্ডার জঙ্গলে। সঙ্গে ছিলেন মাওবাদী পলিটব্যুরো সদস্য মিহির বেসরা-সহ জনা পঞ্চাশেক সক্রিয় স্কোয়াড সদস্য। তবে কেন্দ্রীয় সরকার মাওবাদীদের নির্মূলে কঠোর নীতি নেওয়ার পরেই ঝাড়খণ্ড সরকারও অভিযান তীব্র করে। জানুয়ারিতে সারেন্ডার জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে মৃত্যু হয় জনা পনেরো স্কোয়াড সদস্যের। পরে মিহির বেসরা ধরা পড়েন। হাতে গোনা কয়েকজন স্কোয়াড সদস্যকে নিয়ে সারেন্ডা ছেড়ে দলমা রেঞ্জ এলাকায় চলে আসেন আকাশ। তবে সূত্রের খবর, গত মাসে ঝাড়খণ্ডে যৌথ বাহিনীর হাতে ধরা পড়া সাগর সিংহ, মদন মাহাতো, মীনা পাহাড়িয়াদের জেরা করে জানা গিয়েছিল, অগস্টেই শেষে দলমা রেঞ্জ ছেড়ে নিরুদ্দেশ হন ওই শীর্ষ মাওবাদী নেতা।

শেষ রক্ষা অবশ্য হল না। দীর্ঘ চার দশক আত্মগোপন করে থাকায় দাঁড়ি পড়ল বৃহস্পতিবার।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
purulia

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy