পাহাড় কেটে বার করা হচ্ছে গ্রানাইট। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে রঘুনাথপুরের বেড়োর চণ্ডী পাহাড়ে এই কাজ চলছে বলে দাবি। এরে জেরে পাহাড়ের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। রবিবার তাঁরাই পাহাড় বাঁচানো-সহ আরও কয়েকটি দাবিতে মিছিল করলেন এলাকায়। মিছিল ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা করে এ দিন সকাল থেকেই পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়। বাহিনীর সঙ্গে গ্রামে রুট মার্চও করে পুলিশ। যদিও শেষ পর্যন্ত সব নির্বিঘ্নে মেটে।
এ দিন দুপুরে বেড়ো গ্রামের এক প্রান্ত থেকে শুরু হয় মিছিল। গ্রাম ঘুরে পথসভা করা হয় এলাকার বাজারে। ছিলেন শ-দুয়েক লোকজন। উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম আবির বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, চণ্ডী পাহাড় কাটার কাজ বন্ধ করার পাশাপাশি পাহাড়ের বর্তমান জমির শ্রেণি চরিত্র ও বনাঞ্চলের নথি প্রকাশ করতে হবে। প্রতিবাদে শামিল হওয়া লোকজন মনে করছেন প্রয়োজনীয় অনুমতি না নিয়েই পাহাড় কাটছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তাই কাজের অনুমোদন ও ছাড়পত্র প্রকাশ্যে আনার দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। আবির বলেন, “চণ্ডী পাহাড়টির অস্তিত্ব সঙ্কটে। এই পাহাড়ের সঙ্গে এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য, পশুপাখির অস্তিত্ব জড়িয়ে।”
সূত্রের খবর, বেড়ো এলাকায় গ্রানাইট হাব তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। সেই লক্ষ্যে বছর দশেক আগে রাজ্যের অধীনস্থ সংস্থা—‘মাইনস অ্যান্ড মিনারেল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড’ বা এমডিটিসিএল চণ্ডী পাহাড় থেকে গ্রানাইট বার করার কাজের বরাত দেয় একটি বেসরকারি সংস্থাকে। সেই সংস্থার দাবি, পাহাড়ের মূল অংশ কাটা হচ্ছে না। আশপাশের এলাকা থেকে গ্রানাইট বার করা হচ্ছে।