দুর্গাপুজোর মণ্ডপের চৌহদ্দিতে বামপন্থীদের বইয়ের বিপণি খোলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক চলছে। যদিও এ বারেও দোকান খুলে বাম-মতাদর্শ ও সাহিত্যের বই বিক্রি করার প্রস্তুতি শুরু করেছেন পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার সিপিএম ও এইইউসি নেতৃত্ব। বিজেপির এসইউসির পুরুলিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রঙ্গলাল কুমারের প্রশ্ন, ‘‘রাজ্যে অবাধে মদ বিক্রি হচ্ছে। অবৈধ মদের রমরমা বাড়ছে। তাতে সরকারের আপত্তি নেই। কিন্তু বই বিক্রিতে আপত্তি। এ কোন রাজ্যে আছি আমরা!’’
পুরুলিয়ায় সিপিএমের থেকেও বেশি বই এর দোকান খোলে (গতবার ২৭টি) এসইউসি।মূলত দলের প্রতিষ্ঠাতা শিবদাস ঘোষের লেখা ও বক্তৃতা থেকে তৈরি বই-সহ অন্যান্য মার্ক্সসীয় সাহিত্য বিক্রি করে এসইউসি। মার্ক্সসীয় ও প্রগতি-সাহিত্যের বই বিক্রি হয় সিপিএমের বুক স্টলে। গতবার তারা প্রায় আটটি স্টল করেছিল। এ বারেও পুরুলিয়া শহরে তিনটি-সহ জেলায় আটটি বইয়ের স্টল তারা খুলবেন বলে জানান সিপিএমের পুরুলিয়া জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বিমলেন্দু কোনার। তিনি বলেন, ‘‘পুজো কমিটি বুক স্টল করতে আপত্তি জানালে যেখানে যেমন সুবিধা হবে, সেখানেই করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী যাই বলুন না কেন, স্টল হবেই।’’ এসইউসি নেতৃত্বও জানান, তাঁরা জেলায় ২৫টির বেশি স্টল করবেন।
দুই দল জানাচ্ছে, গত বছর বাঁকুড়া জেলায় সিপিএম ২৭টি ও এসইউসি ৫০টি বুক স্টল খুলেছিল। তবে শহরাঞ্চলে দুটি রাজনৈতিক দলের স্টলই পুজো মণ্ডপ থেকে কিছুটা দূরে জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশে খোলা হয়। সেক্ষেত্রে পুজো কমিটির কাছে আলাদা করে অনুমতি এতদিন নিতে হয়নি বলেই দাবি নেতৃত্বের। এ বার বাঁকুড়ায় দলের প্রতিটি এরিয়া কমিটিকেই (৪৪টি) স্টল তৈরি করতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য অভয় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘জেলার অবশ্য সব জায়গা দুর্গাপুজোর চল বেশি নেই। যেখানে কালীপুজোয় জাঁকজমক বেশি, সেখানে তখন স্টল খোলা হবে।’’ এসইউসির বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য স্বপন নাগ জানান, গতবারের মতো এ বারও তাঁরা বুক স্টল করবেন।
বুক স্টল গড়ার প্রস্তুতিতে এখনও দু’জেলায় কোনও সমস্যায় তাঁদের পড়তে হয়নি বলে জানাচ্ছেন দুই বাম দলের নেতৃত্ব। তবে রাজ্যে পালাবদলের পরে দুই জেলায় বহু পুজো কমিটিতে বদল এসেছে। বিজেপির নেতা-কর্মীরা পুজোগুলি পরিচালনার সাথে যুক্ত হয়েছেন। সেক্ষেত্রে পুজো মণ্ডপের আশপাশে স্টল করতে দিতে কমিটিগুলি আপত্তি জানালে অন্যত্র বইয়ের দোকান করার পরিকল্পনা নিয়েছে দুই বাম দলই।
বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তাপস বসু বলেন, ‘‘কে, কোথায়, কী স্টল খুলবে, তাতে আমাদের কিছু এসে যায় না। তবে কোথাও দেশ বিরোধী বা সনাতন ধর্ম বিরোধী মতবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করা হলে মানুষ রুখে দাঁড়াবে।’’এ দিকে এ বারেও দুই জেলায় কয়েকটি বুক স্টল আরএসএস করবে বলে জানা গিয়েছে।