E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

অভাব সয়েও শিল্প আগলে মিঠুনেরা

প্রতি বছরের একাদশীর মতো বৃহস্পতিবারও একই ছবি দেখা যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩১
রাবণকাটা নাচ দেখতে ভিড় খুদে থেকে বড়দের। বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুর শহরের নিমতলায়।

রাবণকাটা নাচ দেখতে ভিড় খুদে থেকে বড়দের। বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুর শহরের নিমতলায়। নিজস্ব চিত্র।

পুজো শেষ। তবু উৎসবের আমেজ বিষ্ণুপুর শহরে। প্রথা মেনে দশমী থেকে দ্বাদশী ক্ষণিকের জন্য হলেও শহরের নানা প্রান্ত মাতিয়ে তুলছে রাবণকাটা নাচের দল।

প্রতি বছর বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় কাটানধার এলাকায় রঘুনাথ জিউ মন্দিরে প্রথমে এই নৃত্য প্রদর্শিত হয়। তার পরের দিন অর্থাৎ একাদশীর সকাল থেকে সুগ্রীব, জাম্বুবান, হনুমান ও বিভীষণের সাজে চার লোকনৃত্য শিল্পী নানা এলাকায় ঘুরে নাচ দেখান। প্রতি বছরের একাদশীর মতো বৃহস্পতিবারও একই ছবি দেখা যায়। মুখোশ পড়েছিলেন নৃত্য শিল্পী সুকুমার অধিকারী, মিঠুন লোহার, রণজিৎ গরাঁই ও নারান বারিক। বাদ্যযন্ত্রে সঙ্গত দেন সনাতন ধাড়া, তারাপদ ধাড়া, শ্যামাপদ পণ্ডিত, সূর্য কালিন্দীরা। তাঁরা জানান, সকলেই সরকারের শিল্পীভাতা পান, তবে তাতে সংসার চলে না। বছরভর কেউ আইসক্রিম বিক্রি করেন, কেউ রাজমিস্ত্রির কাজ করেন, কেউ আবার আনাজ ব্যবসায়ী। শিল্পীদের কথায়, “মল্লরাজ আমলের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই পুজোর পরে ক’টা দিন ঘুরে ঘুরে নাচ দেখাই।”

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মল্লরাজ রঘুনাথ সিংহের আমলে এই নাচের সূচনা। মূলত, রাজস্থান ও মল্লভূমের সংস্কৃতির মিশেল এই লোকনৃত্য। বিষ্ণুপুরের ছোঁয়ায় এই নাচে রাবণ বধের সঙ্গে জুড়েছে কুম্ভকর্ণ ও ইন্দ্রজিৎ বধের কাহিনি। স্থানীয়েরা বলেন, “দশমীতে রঘুনাথ জিউ মন্দিরে পুজোর পরে বধ হন কুম্ভকর্ণ। একাদশীর সন্ধ্যায় বধ হন ইন্দ্রজিৎ এবং দ্বাদশীর রাতে বধ হন রাবণ।” প্রবীণা মালা লোহারের কথায়, “দুর্গাপুজোর চেয়েও আমাদের কাছে বড় উৎসব রাবণকাটা। এই নাচ দেখতে আত্মীয়-স্বজনেরাও আসেন।” বিশ্বাস, উৎসব ও ধর্মীয় ভাবাবেগের স্রোতেই এখনও বহমান এই লোকনৃত্যের ধারা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
purulia

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy