Advertisement
E-Paper

তারাপীঠ মন্দিরের সামনে হোটেলে আগুন, মৃত্যু অন্তত ৮ পুণ্যার্থীর! শ্রাবণের পুজো দিতে গিয়েছিলেন

তারাপীঠে মন্দিরের সামনে একটি হোটেলে আগুন। দগ্ধ হয়ে মৃত্যু অন্তত ৮ জন পুণ্যার্থীর। শ্রাবণ মাসের পুজো দিতে তারাপীঠে গিয়েছিলেন তাঁরা। সোমবার সকালে হোটেলের একতলায় হঠাৎ আগুন লেগে যায়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ অগস্ট ২০২৬ ০৭:২১
তারাপীঠের হোটেলে আগুন নেবানোর পর উদ্ধারকাজ চলছে। সোমবার সকালে।

তারাপীঠের হোটেলে আগুন নেবানোর পর উদ্ধারকাজ চলছে। সোমবার সকালে। —নিজস্ব চিত্র।

তারাপীঠে মন্দিরের সামনে হোটেলে আগুন। দগ্ধ হয়ে মৃত্যু অন্তত ৮ জন পুণ্যার্থীর। শ্রাবণ মাসের পুজো দিতে তারাপীঠে গিয়েছিলেন তাঁরা। সোমবার সকালে হোটেলের একতলায় হঠাৎ আগুন লেগে যায়। গুরুতর জখম হয়েছেন বেশ কয়েক জন। তাঁদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে।

তারাপীঠের এই হোটেলেই আগুন লেগেছে।

তারাপীঠের এই হোটেলেই আগুন লেগেছে। —নিজস্ব চিত্র।

তারাপীঠ থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে পুকুরের ধারে রয়েছে হোটেল ‘বিদেশিনী’। পাঁচতলা ওই ভবনের নীচে সোমবার ভোরের দিকে আগুন লাগে। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। দ্রুত তা বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলের আবাসিকেরা অধিকাংশই সেই সময় ঘুমোচ্ছিলেন। শিশুরাও ছিল। ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারদিক। ভাল করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন অনেকটা ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে ঘরের মধ্যেই আটকে পড়েন অনেকে। হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

তারাপীঠের হোটেলের সামনে পুলিশ এবং দমকলবাহিনী। সোমবার।

তারাপীঠের হোটেলের সামনে পুলিশ এবং দমকলবাহিনী। সোমবার। —নিজস্ব চিত্র।

হোটেলটি থানার সামনে হওয়ায় পুলিশ পৌঁছোতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তারাপীঠ থানার পাশাপাশি রামপুরহাট থানার পুলিশও সেখানে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকলও। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কিন্তু হোটেলের নীচতলার বিস্তীর্ণ অংশই পুড়ে গিয়েছিল। আবাসিকদের কেউ কেউ আগুনে দগ্ধ হয়েছেন, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন ধোঁয়ায়। জখমদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুণ্যার্থীদের আতঙ্ক কাটছে না।

ঠিক কী ঘটেছিল? হোটেল সূত্রে খবর, ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি হঠাৎ ফেটে যায়। সেখানে আগুন ধরে যায়। ওই হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল বলেন, ‘‘আমাদের এখানে রাতপাহারার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা উঠে সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন। বিদ্যুৎ সরবরাহের তার খুলে দেন। কিন্তু তত ক্ষণে হোটেলসজ্জার সঙ্গে ফাইবারের যে জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যায়। আগুনটা আরও বেড়ে যায়। দমকলকর্মীরা এসে আগুন নিবিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। আতঙ্কে ঘর থেকে আবাসিকেরা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিলেন। তাঁরা বাইরে আগুনের মধ্যে পড়ে যান। অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। পিছন দিক দিয়ে বেরোনোর দরজা রয়েছে। কিন্তু সেটা অনেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাঁরা রিসেপশন দিয়ে বেরোতে শুরু করেন। তখনই অনেকে ঝলসে যান।’’

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থেকে পরিবার নিয়ে তারাপীঠে পুজো দিতে গিয়েছিলেন তপনজ্যোতি মণ্ডল। ‘বিদেশিনী’ হোটেলেই উঠেছিলেন। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ভোর ৪টের সময় বাইরে খুব আওয়াজ হচ্ছিল। রিসেপশনের ডান দিকে ২ নম্বর ঘরে আমরা ছিলাম। মা আর বোন ছিল ১ নম্বর ঘরে। দরজা খুলে বেরোতে গিয়ে দেখি আগুন ঢুকে আসছে। আমরা দরজা বন্ধ করে দিই। ঘরে কোনও জানলা ছিল না। শৌচালয়ে গিয়ে আমরা সেখানকার উপরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছিলাম। প্রায় ৪৫ মিনিট আটকে ছিলাম আমি, আমার স্ত্রী আর দুই সন্তান। তারাপীঠ থানায় বারংবার ফোন করেছি। ওঁরা এসে দরজা ভেঙে আমাদের উদ্ধার করেন। আমার মা এখনও সংজ্ঞাহীন। বোনেরও চোট লেগেছে।’’

হোটেলের উপরের তলাতেও অনেকে আটকে পড়েছিলেন। নীচে আগুন থাকায় তাঁরা বেরোতে পারছিলেন না। অনেকে আতঙ্কে জিনিসপত্র নীচে ফেলতে শুরু করেন। তবে উপরে কারও তেমন আঘাত লাগেনি। মালদহ, আলিপুরদুয়ারের পুণ্যার্থীরাও ওই হোটেলে ছিলেন। মৃতদের নাম, পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

Tarapith Tarapith Hotels Tarapith Temple Fire Incident

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy