বীরভূমের পাড়ুই থেকে এ বার টুলু মণ্ডলের শ্যালকের ম্যানেজারকে আটক করল পুলিশ। মঙ্গলবার বীরভূমের ওই পাথর ব্যবসায়ীর শ্বশুরবাড়িতে হানা দিয়েছিল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। এমনকি, বম্ব স্কোয়াডের কর্মীরাও দোতলা ওই বাড়িতে ঢোকেন। চলে বাড়িময় তল্লাশি অভিযান। শৌচাগারের কাছে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয় বলে দাবি টুলুর শ্বশুর নুরুল হকের।
টুলুর শ্যালক মিন্টু শেখের ঘনিষ্ঠ বিকি শেখ তাঁর (মিন্টু) পাথর ব্যবসার তদারকি করতেন। ছিলেন ম্যানেজারের দায়িত্বে। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, কিছু দিন ধরেই বিকির কর্মকাণ্ডের উপরে নজর ছিল তাদের। মিন্টুর আর্থিক লেনদেন, বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং ‘প্রভাবশালীদের’ সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কেমন ছিল জানার জন্য বিকিকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চান তদন্তকারীরা। এ-ও জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে মিন্টুর নামে এবং বেনামে কত সম্পত্তি হয়েছে, তা হিসাব করে দেখছে পুলিশ।
বিকির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু ডিজিটাল ডিভাইস থেকে তথ্য উদ্ধার হয়েছে। সেগুলো থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রের শিকড় কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং তার নেপথ্যে আরও কারা মদত জুগিয়েছেন, সেই রহস্যের জট খোলা এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
অন্য দিকে, তদন্তকারীরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে টুলুর শ্বশুরের দাবি, কিছুই পায়নি পুলিশ। শুধু-শুধু তাঁর বাড়ির যাবতীয় জিনিসপত্র লন্ডভন্ড করে তল্লাশি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘বাথরুমের কাছে কাজ হচ্ছিল। সেখানেও খুঁড়েছে। বলল, নির্ভরযোগ্য সূত্রে নাকি খবর পেয়েছে, এখানে অনেক মাল আছে! তার পর বিছানা-তোশক, সব উল্টেপাল্টে একাকার করেছে।’’
টুলুর দুই শ্যালক। এক জনের নাম নুর আলম ওরফে মিন্টু। আর এক জনের নাম শামসুল আলম। তিনি ডাকনাম মিঠু-তেই বেশি পরিচিত এলাকায়। দু’জনেই ব্যবসায়ী। পাড়ুইয়ে দু’জনের বাড়িতেই তল্লাশি চালিয়েছে এসটিএফ। টুলুর শ্বশুরের দাবি, তাঁদের ৪০ বছরের পুরনো ব্যবসা। আগে ধানের কারবার করতেন তিনি। ২০১০ সালে ছেলেদের হাতে ব্যবসার ভার দিয়ে হজ করতে যান। এখন ছেলেরা পাথরের ব্যবসাও করেন। কিন্তু তিনি আর ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে মাথা ঘামান না। আবার মেয়ে-জামাই সম্পর্কেও তিনি ‘উদাসীন’। বৃদ্ধের কথায়, ‘‘তারা কোথায় জানি না। আমার সঙ্গে যোগাযোগ নেই।’’ জামাই বা মেয়ে কাউকে ফোনও করতেন না? টুলুর শ্বশুরের জবাব, ‘‘আমার মেয়ের নাম ফিরোজা বিবি ওরফে মিনা। সে সন্তানের পড়াশোনার জন্য কলকাতায় থাকে। আমার সঙ্গে ফোনেও কথা হয় না। কারও সঙ্গেই আমার যোগাযোগ নেই।’’
আরও পড়ুন:
টুলুর মামলায় মঙ্গলবার আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃতের নাম নইমুদ্দিন মণ্ডল। তিনি মহম্মদবাজার থানা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, সম্পর্কে টুলুর তুতো ভাই ওই নইমুদ্দিন। টুলুর সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্ক না থাকলেও তাঁর বেনামি ব্যবসার অংশীদার হিসাবে তাঁর নাম পাওয়া গিয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত চার জন গ্রেফতার হয়েছেন। টুলুর ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ‘ফ্রিজ়’ করেছে পুলিশ। তাঁর ঘনিষ্ঠ মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা। কিন্তু এত সবের পরেও টুলুর হদিস মেলেনি। কিন্তু আইনজীবী মারফত নিরাপত্তা এবং রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’। মামলা দায়েরের অনুমতিও দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।