রাজ্যে পালাবদলের পরে বিশ্বভারতীর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের দু’টি বৈঠক হয়ে গেলেও শান্তিনিকেতনের ডাকঘর মোড় থেকে উপাসনা গৃহ হয়ে কালিসায়র পর্যন্ত রাস্তাটি বিশ্বভারতীকে ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ বার বোলপুর-শান্তিনিকেতন রাস্তার একাংশে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভারী যান নিয়ন্ত্রণের পুরনো নির্দেশিকা আবার মনে করিয়ে দিল জেলাপ্রশাসন। নির্দেশিকা লাগানো বোর্ড বসল রাস্তায়। যা সদর্থক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও প্রবীণ আশ্রমিকেরা
২০১৭ সালে এই রাস্তাটি বিশ্বভারতীকে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু এর কয়েক বছর পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশ্রমিকদের একাধিক অভিযোগ পেয়ে ২০২০ সালে জেলা সফরের এসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের রাস্তাটি বিশ্বভারতীর কাছ থেকে ফিরিয়ে নেন। বিশ্বভারতী বার বার রাস্তাটি ফেরত চাইলেও রাস্তাটি এখনও পূর্ত দফতরের অধীনে রয়েছে।
অভিযোগ, এ রাস্তায় সারাদিন ভারী পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করছে। ছোটবড় দুর্ঘটনার পাশাপাশি রাস্তাটিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। সে ভাবে যান নিয়ন্ত্রণও হয় না বলে অভিযোগ। এ পরিস্থিতিতে আশ্রম এলাকায় ফের পুরনো নির্দেশিকা মনে করিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নির্দেশিকায় প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিশ্বভারতীর নির্দিষ্ট কয়েকটি রাস্তায় ভারী, মাঝারি ও হালকা পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল নিষিদ্ধ। বলা হয়েছে, বোলপুর-শান্তিনিকেতন রোডে নিশা হোটেল থেকে রতনকুঠি গেস্ট হাউস এবং শান্তিনিকেতন-শ্রীনিকেতন রোডে শান্তিনিকেতন পোস্ট অফিস থেকে সঙ্গীত ভবন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। দিন ও রাতে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ রয়েছে।
প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, “আমি চাইব হেরিটেজ এলাকায় দিনে ও রাতে ভারি গাড়ি চলাচল বন্ধ হোক।” শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক তথা প্রবীণ আশ্রমিক অনিল কোনার বলেন, “রাতেও এই নিয়ম কার্যকর করা উচিত বলে আমি মনে করি।”
বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, “দিনের বেলায় ভারী গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করার নির্দেশ আগেই ছিল। সেটিই নতুন করে বোর্ডে তুলে ধরা হয়েছে। তবে ক্যাম্পাস লাগোয়া আবাসিক এলাকায় যাওয়ার জন্য কিছু গাড়িকে ছাড় দেওয়া হবে।”
এ নিয়ে জেলাশাসক ধবল জৈনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তচব্য করতে চাননি।