রাজ্যের দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। রেজিনগরে তাদের প্রার্থী শেখ সফিউদ্দিন জামান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া নন্দীগ্রাম আসনে তাদের প্রার্থী মহম্মদ এহেতাশ মুল হক। তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত। তবে সেই প্রার্থীরা কোন প্রতীকে লড়বেন, তা নিয়ে এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
৬ অক্টোবর রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম— দুই আসনে ভোট। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার। কালীঘাট তৃণমূল আগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির প্রার্থী করেছে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। রেজিনগর কেন্দ্রে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। সোমবার প্রার্থী ঘোষণা করে দিল ঋতব্রত শিবিরও। যদিও মমতা এবং ঋতব্রত, দুই শিবিরের প্রার্থীর প্রতীক কী হবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। শনিবার বৈঠকের পর কালীঘাট এবং ঋতব্রত তৃণমূল, দুই শিবিরকেই আলাদা করে চিঠি দিয়েছে কমিশন। তাতে আরও কিছু নথির কথা বলা হয়েছে দু’পক্ষকেই। এখন প্রশ্ন, দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি আদৌ হবে?
দুই পক্ষই ঘাসফুল প্রতীক দাবি করে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। শনিবার দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠকেও বসেছে কমিশন। রবিবার তাদের চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুই শিবিরের কাছেই বেশ কিছু নথি চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ১৭ সেপ্টেম্বর আবার একপ্রস্ত বৈঠক কিংবা শুনানি করতে পারে কমিশন। এর মধ্যে কালীঘাট তৃণমূল আশাবাদী, মমতার আঁকা প্রতীক তাদের অধিকারেই থাকবে। সূত্রের খবর, ঋতব্রতপন্থীরাও আশাবাদী।
আরও পড়ুন:
কিন্তু কী হতে পারে? উপনির্বাচনের আগে প্রতীক নিয়ে কমিশন অন্তর্বর্তিকালীন কোনও নির্দেশ দিতেই পারে। সেটা না হলে আরও কয়েকটি সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞেরা। কারও মতে, ফয়সালা হওয়া পর্যন্ত কমিশনের তরফে ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হতে পারে ঘাসফুল প্রতীক। সে ক্ষেত্রে উপনির্বাচনে লড়ার সময় দু’পক্ষকেই অস্থায়ী নাম এবং প্রতীক নিতে হবে কমিশনের কাছ থেকে। আবার যদি ঋতব্রত শিবির ঘাসফুল প্রতীক পেয়ে যায়, তখন কালীঘাট তৃণমূলকে অন্য প্রতীকে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে লড়তে হবে। আবার উল্টোটাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, রবিবার পর্যন্ত প্রতীক-যুদ্ধে এগিয়ে কালীঘাট তৃণমূল। কমিশনকে নথিপত্র দেওয়ার বিষয়ে ঋতব্রত তৃণমূলের তুলনায় কালীঘাট তৃণমূলের আপাত ভাবে সুবিধা বেশি।
গত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নন্দীগ্রাম ছাড়াও লড়েছিলেন ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও। দুই কেন্দ্র থেকেই জেতেন তিনি। ভোটে জেতার পর নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেন। ফলে ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন করাতে হচ্ছে কমিশনকে। একই ছবি রেজিনগরেও। হুমায়ুন রেজিনগর ছাড়াও নওদা আসন থেকেও লড়েছিলেন। জেতেন দুই আসন থেকেই। ভোটের পর রেজিনগর ছেড়ে দেন হুমায়ুন। উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রে নিজের পুত্র গোলাম নবি আজাদকে (রবিন) প্রার্থী করেছেন বিধায়ক। আগামী ৯ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে ফলঘোষণা।