বন দফতরের কর্মী ও আধিকারিকদের একাংশের বেতনবৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার মোহর কুঞ্জে আয়োজিত বন দফতরের অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন তিনি। পুজোর মাস অক্টোবর থেকেই ফরেস্ট রেঞ্জার ও বনরক্ষীদের বেতন মাসে ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানো হবে বলে জানালেন তিনি। একই সঙ্গে বন সহায়কদের বেতনও বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে বন সহায়কেরা মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা পান। ২ হাজার টাকা বেড়ে অক্টোবর থেকে তাঁরা পাবেন ১২ হাজার করে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন দফতরের কর্মী ও আধিকারিকেরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এবং নানা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তাই তাঁদের কাজের কথা মাথায় রেখেই বেতনবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “আপনারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে নানা জায়গায় কাজ করেন। পুজো অক্টোবর মাসে। ওই মাস থেকে আপনাদের বেতন ৫ হাজার টাকা করে বাড়িয়ে দেওয়া হল।” বন সহায়কদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাঁরা আছেন, তাঁরা ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পান এখন। অক্টোবর থেকে পাবেন ১২ হাজার টাকা।”
এর পাশাপাশি পরিবেশরক্ষা ও বৃক্ষরোপণের উপরেও বিশেষ জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু গাছ লাগিয়ে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না বলে বার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একটি গাছ লাগানোর পর অন্তত দু’বছর ধরে তার পরিচর্যা করা জরুরি। গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার রক্ষণাবেক্ষণের দিকেও নজর দিতে হবে। কলকাতার পরিবেশ রক্ষায় আরও বেশি গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কলকাতাকে সুন্দর রাখতে হলে শহরের ‘ফুসফুস’, অর্থাৎ সবুজ অঞ্চলগুলিকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। নিউটাউন-সহ কিছু এলাকায় আকাশপথে সবুজের বিস্তার দেখা গেলেও শহরের বিস্তীর্ণ অংশ এখনও ধূসর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ দিন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৫০টি গাছ লাগানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ম্যানগ্রোভ অরণ্য রক্ষায় ৩ কোটি গাছ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন দফতর ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিবেশরক্ষায় বন দফতরের কর্মী ও আধিকারিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁদের ধন্যবাদও জানান মুখ্যমন্ত্রী।