সরকারের প্রধান হিসেবে একটানা ২৫ বছরের কার্যকাল। নরেন্দ্র মোদীর এই ‘অনন্য’ প্রশাসনিক যাত্রাপথকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশব্যাপী ‘সেবা সঙ্কল্প অভিযান’ করছে বিজেপি। এ রাজ্যেও সেই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্মদিন থেকে শুরু হয় এই অভিযান। সেই কর্মসূচি শেষ হবে ৭ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। সে দিন দেশব্যাপী ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র পরিকল্পনা বিজেপির। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সোমবার সেই পরিকল্পনার কথা জানান। বৃহস্পতিবার কী কী হবে, তার এক রূপরেখাও তুলে ধরেন।
৭ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে শমীক বলেন, ‘‘২৫ বছর একটানা সরকারের প্রধান পদে থাকা— সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা। সে কথা মাথায় রেখেই এই সেবা সঙ্কল্প অভিযান করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর দেশ জুড়ে সেবা জ্যোতি যাত্রা করব আমরা।’’ সে দিন কী কী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে? দেশের প্রতিটি জেলাতেই বিজেপি এই পদযাত্রার আয়োজন করবে। কর্মসূচির সূচনালগ্নে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী ভাষণ দেবেন। সেই ভাষণ জায়ান্ট স্ক্রিনে সারা দেশে শোনানো হবে। পশ্চিমবঙ্গেও একই ভাবে পালন করা হবে বলে জানান শমীক। তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে ২৩টি প্রশাসনিক জেলা। সব জেলা সদরে জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে এই ভাষণ শোনানো হবে। কোথাও প্রকাশ্যে জায়গায় জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো হবে, কোথাও আবার কোনও ইনডোর স্টেডিয়ামে।’’
নিতিন, মোদীর ভাষণ শেষে শুরু হবে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’। মশাল হাতে ওই পদযাত্রায় হাঁটবেন বিজেপি কর্মীরা। শমীকের কথায়, ‘‘এই কর্মসূচিতে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা তো থাকবেনই, আমরা সাধারণ মানুষকেও অনুরোধ করছি, কর্মসূচিতে শামিল হয়ে মোদীজিকে আশীর্বাদ করুন।’’
আরও পড়ুন:
প্রথমে একটানা ১৩ বছর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মোদী। তার পরে একটানা ১২ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মোদী। সেই পদে থাকাকালীনই ২০১৪ সালে তাঁকে ‘প্রধানমন্ত্রী মুখ’ ঘোষণা করে বিজেপি ভোটে লড়ে। ভারতের ইতিহাসে সেই প্রথম বার বিজেপি লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন। সে পদেও ১২ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন। ফলে সরকারের প্রধান হিসেবে একটানা কাজ করে যাওয়ার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ৭ অক্টোবর।