Advertisement
E-Paper

১০০ নয়, বকেয়া ডিএ-র ৮৫% মেটাতে চায় রাজ্য! আর্জি সুপ্রিম কোর্টে, চার কিস্তিতে মহার্ঘ ভাতা মেটানোর পরিকল্পনা সরকারের

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ১০০ শতাংশই মিটিয়ে দিতে হবে, নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যকে এ বিষয়ে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। বুধবার সেই রিপোর্টই দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ ২২:০০
ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে রাজ্য সরকার।

ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে রাজ্য সরকার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ১০০ শতাংশ নয়, ৮৫ শতাংশ মেটাতে চায় রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টে স্টেটাস রিপোর্টে তেমনটাই জানানো হয়েছে। বাকি ১৫ শতাংশের ছাড় চাওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের কাছে। রাজ্য জানিয়েছে, মোট চার কিস্তিতে ২০২৮ সালের মধ্যে বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে পুরো ১০০ শতাংশ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে রাজ্যের উপর বিপুল আর্থিক বোঝার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ১০০ শতাংশই মিটিয়ে দিতে হবে, নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যকে এ বিষয়ে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। বুধবার সেই রিপোর্টই দেওয়া হয়েছে। বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় চেয়েছে সরকার। রাজ্য জানিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ মোট ১১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা দিতে হবে। চার কিস্তিতে তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম কিস্তির টাকা ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, প্রথম কিস্তিতেই বকেয়া ডিএ-র ৭ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকাও ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে, তৃতীয় কিস্তি জুলাই মাসে এবং চতুর্থ কিস্তি দেওয়া হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে।

২০০৮ থেকে ২০১৫ এবং ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দু’ভাগে ভাগ করে নিয়ে বকেয়া ডিএ-র টাকা মেটানো হচ্ছে, দাবি রাজ্যের। তবে এই প্রক্রিয়া বেশ জটিল। প্রত্যেক কর্মীর ১৪১ মাসের বকেয়া হিসাব করতে হচ্ছে। রাজ্যের অধীনে লক্ষ লক্ষ কর্মী এবং পেনশনভোগী রয়েছেন। এ ছাড়া ৯০টি ট্রেজারির তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে সরকারকে। বিভিন্ন দফতরের বেতন কাঠামো আলাদা। সেই অনুযায়ী পৃথক গণনা করতে হচ্ছে। তাই বকেয়া ডিএ মেটাতে সময় লাগছে, জানিয়েছে রাজ্য। তা ছাড়া, ২০১৬ সালের আগে কর্মীদের বেতনের তথ্য কম্পিউটারে নথিভুক্ত নেই বলেও দাবি করা হচ্ছে। ওই সমস্ত হিসাব খাতায় লেখা রয়েছে। সেগুলিকে ডিজিটাল মাধ্যমে তুলে হিসাব করতে আরও বেশি সময় লাগছে। এর জন্য নতুন পোর্টাল খোলা হচ্ছে।

রাজ্য জানিয়েছে, প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার কর্মী বকেয়া ডিএ পাবেন। তার জন্য ই-সার্ভিক বুক করতে হচ্ছে। সেই কারণেও বাড়তি সময় লাগছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের বিপুল খরচ এবং আর্থিক বোঝার কথা বলে বকেয়ায় কিছুটা ছাড়ের আবেদন জানানো হয়েছে। রাজ্যের বক্তব্য, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির ক্ষতিপূরণ হিসাবে সরকারি কর্মীদের ডিএ দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ১০০ শতাংশই দিতে হবে, তেমন কোনও মানে নেই। তা ছাড়া, জিএসটি থেকে রাজ্যের আয় এখন কমেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিপুল খরচ হয়ে গিয়েছে। তাই সরকারের উপর আর্থিক চাপ রয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে বকেয়ায় ১৫ শতাংশ ছাড়ের আবেদনটি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।

শীর্ষ আদালতে ডিএ মামলায় সরকারি কর্মীদের একাংশের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তিনি জানান, রাজ্য তাদের মতো আবেদন করতেই পারে। কিন্তু তাঁরা চান, ১০০ শতাংশ বকেয়াই দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হোক। আদালতে সেই অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।

Supreme Court DA Dearness Allowances West Bengal government

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy