জাতিগত শংসাপত্র পেতে কোনও জমির দলিল দেখানো বাধ্যতামূলক নয়। বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানাল রাজ্য সরকার। সমস্ত জেলাশাসকদের এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, নতুন জাতিগত শংসাপত্র দিতে বা পুরনো শংসাপত্র যাচাই করতে গিয়ে অনেক জায়গাতেই সরকারি আধিকারিকেরা জমির দলিল দেখতে চাইছেন। বিশেষত ১৯৫০ সালের আগের জমির দলিল চাওয়া হচ্ছে। এই ধরনের কোনও নথি জাতিগত শংসাপত্রের জন্য বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছে সরকার।
জাতিগত শংসাপত্রের জন্য যে জমির দলিল প্রয়োজন হয় না, তা সরকারের আগের বিজ্ঞপ্তিতেও ছিল। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের বিজ্ঞপ্তির কথা স্মরণ করিয়ে বুধবার রাজ্য সরকারের অনগ্রসরণ শ্রেণি কল্যাণ দফতরের তরফে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘বিভিন্ন জেলায় শংসাপত্র প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ জাতিগত শংসাপত্রের আবেদন নিষ্পত্তির সময় জমির দলিল চাইছেন। বিশেষত ১৯৫০ সালের আগের জমির দলিল চাওয়া হচ্ছে। শংসাপত্র পাওয়ার জন্য বা তা যাচাই করানোর জন্য কোনও দলিল বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর বাসস্থানের মর্যাদার জন্যও তা লাগবে না। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা ছিল।’’
আরও পড়ুন:
জাতিগত শংসাপত্রে মূলত অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) সংরক্ষণের ক্ষেত্রেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্ট ২০১১ সালের পর দেওয়া যাবতীয় শংসাপত্র বাতিল করে দিয়েছিল। তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। অনেকের শংসাপত্রই পুনরায় যাচাই করার প্রয়োজন হচ্ছে। সূত্রের খবর, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শংসাপত্র প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ১৯৫০ সালের জমির দলিল বাধ্যতামূলক। এত পুরনো নথি অনেকের সংগ্রহে নেই। ফলে বহু মানুষ জাতিগত শংসাপত্রে, বিশেষত ওবিসি শংসাপত্র তৈরি বা যাচাই করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। রাজ্য সরকারের তরফে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে দেওয়া হল। জেলাশাসকদের জানানো হয়েছে, এই কাজের জন্য কোথাও যাতে জমির দলিল না-চাওয়া হয়, তা কঠোর ভাবে নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। অনগ্রসরণ শ্রেণি কল্যাণ দফতরের বিশেষ সচিব এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।