Advertisement
E-Paper

‘ওঁকে ভোটে লড়তে দিন’! মিলন প্রধানের জামিন বাতিলের আর্জি মানল না সুপ্রিম কোর্ট, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ভোটদান মঙ্গলবার

২০০৭ সালের পুরনো খুনের মামলায় মিলনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে তিন সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৪৯
নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন আপাতত বহাল সুপ্রিম কোর্টে।

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন আপাতত বহাল সুপ্রিম কোর্টে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিনের মামলায় এখনই হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, মিলনকে ভোটে লড়তে দিতে হবে। সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আজ, ৫ অক্টোবর, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত দেখিয়ে এই মমলা থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি জানান, আইনজীবী থাকাকালীন নন্দীগ্রামের এই সব মামলায় তিনি সওয়াল করেছিলেন। ফলে এখন তিনি বিচারপতি থাকলে তা হবে স্বার্থের সংঘাত। বিচারপতি বাগচী সরে দাঁড়ানোর ফলে মামলা ৭ অক্টোবর, বুধবার ফের তালিকাভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ মামলাটি বুধবার উঠবে। তখন এই মামলা ফের শুনবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। তার আগে মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ রয়েছে। ওই সময় প্রার্থী কেন্দ্রেই থাকতে পারবেন।

২০০৭ সালের পুরনো খুনের মামলায় মিলনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে তিন সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে মিলনকে হলদিয়া আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে, জানিয়েছিল আদালত। কিন্তু হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বক্তব্য, কেউ ভোটে দাঁড়ালে কেন বাড়তি সুবিধা পাবেন? তাঁকে সাধারণ মানুষের মতোই বিবেচনা করা উচিত এবং বাকিদের ক্ষেত্রে যা হয়, মিলনের ক্ষেত্রেও তা-ই হওয়া উচিত।

উপনির্বাচনের আগের দিন এই মামলায় হাই কোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে চায়নি সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘ওঁকে ভোটে লড়তে দিন। ভোট যেন সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়।’’ উল্লেখ্য, মিলনের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল চেয়ে গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিল রাজ্য। বৃহস্পতিবারই মামলা শোনা হোক, চেয়েছিলেন রাজ্যের আইনজীবী। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, দ্রুত শুনানি সম্ভব নয়। মামলা সোমবারই শোনা হবে।

মিলনের গ্রেফতারিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। দাবি, দীর্ঘদিনের মামলা হলেও এত দিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী করার পরেই পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। এর নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সরকার এই অভিযোগ মানতে চায়নি। সুপ্রিম কোর্টে সোমবার রাজ্যের তরফে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, মিলনের বিরুদ্ধে যে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে, তা তিনি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করার পর সরকার জানতে পেরেছে। মামলাটি কী অবস্থায় এত দিন ছিল, সরকার জানতই না। এত দিন পুলিশ কোনও পদক্ষেপ কেন করেনি, তা-ও বলতে পারেনি রাজ্য। এ ক্ষেত্রে আগের সরকারের নিষ্ক্রিয়তার দিকে আঙুল তোলা হয়েছে।

রাজ্যের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, এত দিন পরোয়ানা কার্যকর না হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। রাজ্যের আইনজীবীও তাতে সহমত হয়েছেন।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশে মিলনকে নিয়ে আপাতত স্বস্তিতে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘‘প্রার্থী হওয়ার পর ওঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় পদক্ষেপ করা হয়েছে। নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক জমি আন্দোলনের সঙ্গে বিজেপির অনেক নেতা জড়িত। তাঁদের কেউ গ্রেফতার হননি। এর নেপথ্যে দুরভিসন্ধি বুঝতে আর কারও বাকি নেই। মিথ্যা মামলা তৈরি করা হলেও সত্যকে চেপে রাখা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ দেখলে বোঝা যাবে সরকার ভয় পেয়েছে। নিরপেক্ষ ভাবে ভোট হচ্ছে না। গণনাকেন্দ্র পরিবর্তন করে হলদিয়ায় নিয়ে যাওয়া হোক। আমরা সেই দাবি রাখছি।’’

Supreme Court Nandigram Milan Pradhan By-Election BJP Congress TMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy