পশ্চিম বর্ধমানের পান্ডবেশ্বরে খনির ভিতর প্রায় ১৩ ঘণ্টা আটকে রইলেন ১২ জন শ্রমিক। সোমবার এই ১২ জন পান্ডবেশ্বরের কুমারডিহি কয়লাখনিতে নেমেছিলেন। কিন্তু যান্ত্রিক গোলযোগে ১৫০ ফুট নীচে তাঁদের ডুলি আটকে যায়। ফলে সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ভিতরেই আটকে পড়েন তাঁরা। আটক শ্রমিকদের মধ্যে চারজন কাজ শেষের পর নীচ থেকে উপরে উঠছিলেন, আর আটজন নীচে কাজ করছিলেন।
রাতভর চেষ্টার পরেও ১২ জনকে উদ্ধার করা যায়নি। ভোরে উদ্ধারকাজে গতি আনা হয়। সকাল ৬টা নাগাদ নিরাপদেই উদ্ধার করা হয় ওই শ্রমিকদের। খনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ১২ জনই সুস্থ রয়েছেন। তবে শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাঁদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
খনির ভিতর যাতায়াতের জন্য ডুলি ব্যবহার করে থাকেন শ্রমিকেরা। যান্ত্রিক গোলযোগে সেই ডুলিই মাঝপথে আটকে পড়ে। আটকে পড়া শ্রমিকদের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন পান্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তিনি বলেন, “কাদের গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটল, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর তা তদন্ত করে দেখবেন কর্তৃপক্ষ।” তিনি জানান, রাতেই আটকে পড়া শ্রমিকদের জন্য খাবার এবং পানীয় জল পাঠানো হয়েছিল। ভিতর থেকে সাড়াও দেন ওই শ্রমিকেরা।
খনিশ্রমিকদের একাংশের বক্তব্য, মাঝেমধ্যেই ডুলি নিয়ে এমন বিপত্তি ঘটে। কখনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডুলি আটকে যায়, আবার কখনও ডুলির দড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে বলে তাঁদের দাবি। বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কেন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শ্রমিকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগের কথা শোনেন বিধায়ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খনি আধিকারিক বলেন, “যান্ত্রিক গোলযোগের জেরেই এই সমস্যা হয়েছে।”