পুলিশের গুলিতে ছেলে প্রভাস মণ্ডলের (৪৪) মৃত্যুর পরে তেমন বিচলিত দেখায়নি সন্ধ্যা মণ্ডলকে। চলতি বছরের ৮ জুলাই সে ঘটনার পরের সকালে দৃঢ় গলাতেই বলেছিলেন, “দোষ করেছে, শাস্তি হয়েছে। আমার কিছু বলার নেই।” চার মাস পরে অবশ্য পুত্রশোকে কিছুটা বিধ্বস্ত শোনায় সন্ধ্যার গলা। মঙ্গলবার একই ধাঁচে আরও দু’টি ঘটনার কথা শুনে তিনি বলেন, “বুকে পাথর রেখে ছেলের শোক ভুলে আছি। ওই পরিবারগুলোও পারবে।”
গত জুলাইয়ে বছর বারোর কিশোরীকে ধর্ষণ-খুন ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক এলাকা। ৪ জুলাই বিকেলে প্রভাসই রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় ওই কিশোরীকে। তার পরে চার জন মিলে ধর্ষণ করে কিশোরীর দেহবস্তায় ভরে জলে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। সিসি ক্যামেরা দেখে রাতেই প্রভাসকে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাকে সঙ্গে নিয়েই জলা থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। পরে, প্রভাস-সহ চার অভিযুক্তকেইধরে পুলিশ।
পুলিশের দাবি ছিল, ৮ জুলাই গভীর রাতে ঘটনাস্থলে তদন্তের সময় পুলিশের সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নিয়ে গুলি চালায় প্রভাস। পাল্টা, পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। যদিও চার জন ধরা পড়ার পরেও কেন শুধু প্রভাসকে নিয়ে গভীর রাতে তদন্তে গেল পুলিশ, কী ভাবেই বা পুলিশের সার্ভিস রিভলভার কেড়ে গুলি চালাল প্রভাস, এমন বহু প্রশ্নেরউত্তর মেলেনি।
বড় রাস্তা থেকে ঢুকে গ্রামের ভিতরে প্রভাসের বাড়ি। দরমার বেড়া, প্লাস্টিকের ছাউনি দেওয়া পাশাপাশি দু’তিনটে ঘর। তারই একটিতে এ দিন গৃহস্থালির কাজকর্ম করছিলেন সন্ধ্যা। গত চার মাসে কার্যত ঝড় বয়ে গিয়েছে পরিবারের উপরে। মাস দেড়েক আগে মারা গিয়েছেন প্রভাসের বাবাও। সন্ধ্যার দাবি, পুত্রশোকেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বছর বাষট্টির সন্ধ্যার দাবি, ছেলের মৃত্যুর পরে পুলিশ-প্রশাসন পাশে দাঁড়ায়নি। স্বামীর চিকিৎসার খরচ মেলেনি। প্রভাসের স্ত্রীর সামান্য আয়ে এখন কোনও রকমে সংসার চলে। নাবালক নাতির ভবিষ্যতের চিন্তায় দিন কাটে।
এ দিন বাড়িতে একাই ছিলেন বৃদ্ধা। ছেলের কথা উঠতে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “ও সব আর মনে করতে চাই না। অনেক কষ্টে সব ভুলে আছি।” তাঁর সংযোজন, “আরও অনেকে দোষ করেছিল। তাদের এখনও শাস্তি হল না। আমার ছেলের বেলায় এত বড় শাস্তি কেন!” পরক্ষণে চোখের জল মুছে বলেন, “যা হয়েছে,ভালই হয়েছে।”