কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবিত খসড়া তালিকা প্রকাশ করল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত ওই তালিকা অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ এবং হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৩ অগস্ট পর্যন্ত এই খসড়া তালিকা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য বিভিন্ন জায়গায় রাখা হবে। প্রস্তাবিত পুনর্বিন্যাসের নিয়ে কারও কোনও আপত্তি, পরামর্শ কিংবা সংশোধনের প্রস্তাব থাকলে তা ওই দিনের মধ্যে কলকাতা পুরসভার কমিশনারের কাছে জানাতে হবে।
পুরভবনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বরো অফিস এবং দফতরের ওয়েবসাইটেও তালিকাটি পাওয়া যাবে। পুরভবনে লিখিত ভাবে চিঠি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। ফলে খসড়া প্রকাশের পর রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকেও মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, আগামী ১২ অগস্ট এক দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে বিধানসভায়। সেই অধিবেশনে ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ এবং ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ পাস করানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সংশোধনী আইনের মাধ্যমে হাওড়ায় ৫০টি থেকে ৬৮টি এবং কলকাতায় ১৪৪টি থেকে ২০৯টি ওয়ার্ড গঠন করার আইনি ভিত্তি তৈরি হবে। নতুন পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব অনুযায়ী, হাওড়া পুরসভার ১৪টি বড় ওয়ার্ড ভেঙে মোট ৩৩টি ওয়ার্ড তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন ওয়ার্ডগুলির ভৌগোলিক সীমানাও তুলনামূলক ছোট করা হয়েছে। হাওড়ার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা রয়েছে। ২০১৩ সালের পুরভোটে হাওড়ায় ৫০টি ওয়ার্ড ছিল। ২০১৫ সালে বালি পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ড হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সংখ্যা বেড়ে ৬৬ হয়। পরে ২০২১ সালে বালিকে পৃথক করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় ফের হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০-এ নেমে আসে। সংশ্লিষ্ট বিল দীর্ঘ সময় রাজভবনে আটকে থাকায় বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন সরকারকে বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
অন্যদিকে, কলকাতায় ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর আগে পুর-আইন সংশোধন জরুরি। পুর-আইনের ৫ নম্বর ধারায় বর্তমানে ১৪৪টি ওয়ার্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই ২০৯টি ওয়ার্ড করতে হলে সংশোধনী বিল পাশ করানো প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সরকার। আইন সংশোধনের পর প্রকাশিত খসড়া তালিকার ভিত্তিতে কলকাতার ওয়ার্ডগুলির চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ করা হবে।