Advertisement
E-Paper

নিতিন-সফরের আগে বড়সড় বদল রাজ্য বিজেপিতে, মহিলা মোর্চার শীর্ষে অভিনেত্রী অঞ্জনা, পদ হারালেন ‘বিতর্কিত’ শর্বরী

শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরে দফায় দফায় নতুন কমিটি ঘোষণা শুরু হয়েছিল। প্রথমে রাজ্য সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক-সহ বিভিন্ন পদাধিকারীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। ভোটের কয়েক মাস পরে রাজ্য কার্যকারিণী ঘোষিত হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৬
West Bengal BJP’s big reshuffle before Al India President Nitin Nabin’s Kolkata visit, Mahila Morcha returns to celebrity face

(বাঁ দিক থেকে) অঞ্জনা বসু, নিতিন নবীন, শমীক ভট্টাচার্য এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সর্বভারতীয় সভাপতি পশ্চিমবঙ্গে আসার দু’দিন আগে রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় রদবদল। বদলে গেল মহিলা মোর্চা, যুব মোর্চার মাথা। সাত সাংগঠনিক জেলায় বদলে দেওয়া হল সভাপতি। ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি মেনে মন্ত্রীদের সরানো হল সহ-সভাপতি বা সম্পাদক পদ থেকে।

শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরে দফায় দফায় নতুন কমিটি ঘোষণা শুরু হয়েছিল। প্রথমে রাজ্য সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক-সহ বিভিন্ন পদাধিকারীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। ভোটের কয়েক মাস পরে রাজ্য কার্যকারিণী ঘোষিত হয়েছে। তার পরে ঘোষিত হয়েছে মিডিয়া বিভাগ, সমাজমাধ্যম বিভাগ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়দায়িত্ব। ঘোষিত হয়েছে মুখপাত্রদের নতুন তালিকা। বৃহস্পতিবার ঘোষিত হয়েছে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে অমিতাভ চক্রবর্তীর পুনর্নিযুক্তির সিদ্ধান্তও। শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ শাখা সংগঠনগুলির শীর্ষপদেও রদবদল ঘটানো হল। ভোটের আগে ঘোষিত কমিটিতে যাঁরা পদাধিকারী হিসাবে স্থান পেয়েছিলেন, কিন্তু পরে মন্ত্রী হয়ে গিয়েছেন, তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হল। জেলা স্তরে রদবদলের যে সম্ভাবনা নিয়ে অনেক দিন ধরেই চর্চা চলছিল, তা-ও অনেকটা সেরে ফেলা হয়েছে।

বিজেপি মহিলা মোর্চার নতুন রাজ্য সভানেত্রী হলেন অঞ্জনা বসু। বাংলা টেলিভিশনে তিনি পরিচিত মুখ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে এসেছিলেন। ২০২১-এ বিজেপির পরাজয়ের পরে দলের সঙ্গে তাঁর ‘দূরত্ব বৃদ্ধি’ সংক্রান্ত জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে আবার বিজেপির বৃত্তে তাঁর যাতায়াত বাড়ে। কয়েক মাস আগে তাঁকে কেন্দ্রীয় ফিল্‌ম সেন্সর বোর্ডের পরামর্শক সদস্য করা হয়। সম্প্রতি তাঁকে কলকাতার একটি কলেজে পরিচালন সমিতির সভাপতিপদও দেওয়া হয়। বিজেপিতে অঞ্জনার গুরুত্ব যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট হচ্ছিল। অবশেষে ফাল্গুনী পাত্রকে সরিয়ে অঞ্জনাকে মহিলা মোর্চার সভানেত্রীও করা হল।

মহিলা মোর্চার ক্ষেত্রে বিজেপি নেতৃত্ব আবার ‘খ্যাতনামী মুখ’-এ আস্থা রাখার নীতিতেই ফিরে গেলেন। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে মহিলা মোর্চার মাথায় বসিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। রূপার পরে সে জায়গায় আসেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। দু’জনেই অভিনেত্রী তথা খ্যাতনামী। লকেটের উত্তরসূরি হন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি অভিনেত্রী না হলেও গ্ল্যামার জগৎ থেকেই রাজনীতিতে এসেছিলেন। ছিলেন খ্যাতনামী ফ্যাশন ডিজ়াইনার। অগ্নিমিত্রার পরে মহিলা মোর্চার দু’জন সভানেত্রী হয়েছিলেন তনুজা চক্রবর্তী এবং ফাল্গুনী। তাঁরা সে অর্থে খ্যাতনামী হিসাবে রাজনীতিতে আসেননি। দলের পুরনো কর্মী হিসাবে উঠে এসেছিলেন। এ বার ফাল্গুনীর উত্তরসূরি বাছতে গিয়ে বিজেপি আবার খ্যাতনামী মুখেই ফিরে গেল।

যুব মোর্চা সভাপতিপদে ইন্দ্রনীল খাঁ অনেক দিন ধরেই ছিলেন। তিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছেন। রাজ্যের মন্ত্রীও হয়েছেন। তাই ইন্দ্রনীল যে আর যুব মোর্চার শীর্ষ পদে থাকবেন না, তা নিশ্চিতই ছিল। তাঁর জায়গায় আনা হল অমিত সামন্তকে। ইন্দ্রনীলের কমিটিতে অমিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি আমতা আসনে বিজেপির টিকিট পান। জিতে বিধায়কও হন। এ বার ইন্দ্রনীলকে অব্যাহতি দিয়ে অমিতকে যুব মোর্চার শীর্ষ পদে তুলে আনা হল।

শমীক সভাপতি হওয়ার পরে যে পদাধিকারী তালিকা ঘোষিত হয়েছিল, তাতে সহ-সভাপতি পদে ছিলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, দীপক বর্মন। রাজ্য সম্পাদকদের তালিকায় ছিলেন শঙ্কর ঘোষ। এঁরা প্রত্যেকেই এখন মন্ত্রী। তাই সাংগঠনিক পদ থেকে তাঁদের সরানো হয়েছে। তবে রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরানো হয়েছে শর্বরী মুখোপাধ্যায়কেও। তিনি মন্ত্রী নন। তিনি শুধু বিধায়ক। বিজেপিতে বিধায়ক বা সাংসদ থাকা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলানোয় কোনও বাধা নেই। অগ্নিমিত্রা, দীপক বিধায়ক থাকা অবস্থায় দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শঙ্করও রাজ্য সম্পাদক হয়েছিলেন বিধায়ক থাকাকালীনই। তাই শর্বরীর অপসারণ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। নিজের নির্বাচনীক্ষেত্র যাদবপুরে শর্বরীর কার্যকলাপ নিয়ে দলেরই একাংশ বার বার আপত্তি তুলছিল বলে বিজেপি সূত্রের খবর। তার জেরেই শর্বরীকে রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরতে হল কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজ্য বিজেপির এই পদাধিকারী তালিকায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের প্রভাব বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ দেখভালের দায়িত্ব পাওয়ার পরে বনসল এ রাজ্যে ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’ শুরু করিয়েছিলেন। বুথ স্তর পর্যন্ত আক্ষরিক অর্থেই দলের শক্তি তথা লোকবল বাড়িয়ে তোলার সেই অভিযানে যাঁরা বনসলের ‘টিম’ হিসাবে কাজ করেছিলেন, রাজ্য বিজেপিতে তাঁরা প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়ে গিয়েছেন। বনসলের সেই ‘টিম’-এর প্রধান ছিলেন প্রবাল রাহা। তিনি আগেই রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি হয়েছেন। বুথ সশক্তিকরণ অভিযানের আর এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ শশী অগ্নিহোত্রী হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক। বাকিদের মধ্যে শাখারভ সরকারকে রাজ্য সম্পাদক করা হয়েছিল। নতুন তালিকাতেও তিনি রয়েছেন। অনুপম ঘোষকে রাজ্য বিজেপির মিডিয়া বিভাগের মাথায় বসানো হয়েছে। শুক্রবার যে তালিকা প্রকাশিত হল, তাতে ‘টিম বনসল’-এর বাকিরাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়ে গেলেন। রামপদ দাসকে করা হল সহ-সভাপতি। নীলাঞ্জন অধিকারী, শঙ্কর চক্রবর্তীকে করা হল রাজ্য সম্পাদক। যুব মোর্চার নতুন সভাপতি অমিত সামন্তও বনসলের বিশেষ আস্থাভজন।

মহিলা মোর্চার সদ্য প্রাক্তন সভানেত্রী ফাল্গুনীকে রাজ্য দলের সহ-সভানেত্রী করা হয়েছে। শমীকের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ অনল বিশ্বাসকে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সম্পাদকপদ। রাজ্য সম্পাদক করা হয়েছে মিঠুন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত সঞ্জয় বর্মাকেও।

যে সাতটি জেলায় শুক্রবার সভাপতি বদল করা হয়েছে, সেগুলি হল বনগাঁ, বারাসত, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান ও কাটোয়া। বনগাঁয় নতুন সভাপতি হয়েছে নৃপেন বিশ্বাস। বারাসতে দীপঙ্কর চক্রবর্তী। শ্রীরামপুর ও আরামবাগে নতুন সভাপতি হলেন যথাক্রমে শশী সিংহ এবং প্রশান্ত দিগার। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে সৌমেন তিওয়ারিকে। বর্ধমানের সভাপতি করা হয়েছে আশিস পালকে। কাটোয়ায় মানিক রায়কে।

BJP Bengal politics reshuffle Nitin Nabin

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy