কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তাঘাট, সরণির নামকরণের জন্য কমিটি গড়ল সরকার। ১০ সদস্যের ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্বামী প্রদীপ্তানন্দ ওরফে কার্তিক মহারাজ। তথাগত রায় এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্তও রয়েছেন কমিটিতে। রয়েছেন কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেও।
শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের দফতর থেকে এই কমিটি সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন সড়ক, সরণি বা অ্যাভিনিউয়ের নামকরণের প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখার জন্য এই পরামর্শদাতা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটির কাজ হবে ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যগত দিক থেকে প্রস্তাবগুলি যথাযথ ভাবে খতিয়ে দেখা।
রাজ্যে পালাবদলের পরে একাধিক ক্ষেত্রে নামকরণ ঘিরে আলোচনা-বিতর্ক হয়েছে। পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট থেকে ডন বস্কো সার্কেল পর্যন্ত সড়কের নতুন নামকরণ হয়েছে গোপাল মুখার্জি রোড। আগে সেটির নাম ছিল সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ। যদিও একাংশের মতে, ওই রাস্তার নামকরণ মুসলিম লিগ নেতা হুসেন সুরাবর্দির নামে ছিল না। পরবর্তী সময়ে বীরভূমের রামপুরহাটের একটি রাস্তার নামবদল ঘিরেও বিতর্ক হয়। রামপুরহাট পুরসভার পাঁচমাথার মোড় থেকে ঝনঝনিয়া সেতু— তিন কিলোমিটার রাস্তা সকলের কাছে ‘নেতাজি সুভাষ রোড’ নামেই পরিচিত ছিল। সেটির নাম বদলে ‘ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড’ করার প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তার নামবদলের প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে কমিটি গড়ল রাজ্য। এই কমিটি কী ভাবে কাজ করবে, তা-ও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। নবান্ন জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তা, সরণি, অ্যাভিনিউ, সেতু, সাধারণের ব্যবহারের কোনও জায়গার নামকরণ বা বর্তমান নাম বদলের যে প্রস্তাবগুলি জমা পড়বে, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। প্রস্তাবিত নামগুলির ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং ঐতিহ্যগত গুরুত্বের ভিত্তিতে তা খতিয়ে দেখতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন নথিপত্র এবং ঐতিহাসিক প্রামাণ্য তথ্য ঘেঁটে দেখার উপরেও জোর দিয়েছে নবান্ন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ইতিহাসবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের থেকে পরামর্শ নিতেও বলা হয়েছে কমিটিকে। যে প্রস্তাবগুলি জমা হচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের কাছে যুক্তিযুক্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে কমিটিকে।