আমেরিকার আদালতে মামলা চলছে। ফি কমানো দূর, উল্টে আরও এক বছর সেই এইচ-১বি ভিসার জন্য অতিরিক্ত কড়ি খরচ করতে হবে আবেদনকারীদের। ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প একটি এগ্জ়িকিউটিভ অর্ডার এবং একটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোক্লেমেশন-এ সই করেছেন। প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোক্লেমেশন-এ বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত এইচ-১বি ভিসার জন্য এক লক্ষ মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, নতুন এইচ-১ বি কর্মীর ক্ষেত্রে এক লক্ষ ডলারের এককালীন পেমেন্টের শর্ত ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। তার ফলে বিপাকে পড়তে পারেন ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা। যাঁরা ওই ভিসা নিয়ে আমেরিকায় কাজ করতে যাওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন, তাঁদের সমস্যা বাড়বে। নিয়োগকারী সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে কর্মী আনাতে এতটা খরচ করতে চাইবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
হোয়াইট হাউসের তরফে শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, এইচ-১বি-র অপব্যবহার ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এর ফলে মার্কিন কর্মীরা চাকরির বাজারে বাড়তি সুবিধা পাবেন। প্রসঙ্গত, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসা নিয়েই আমেরিকায় চাকরি করতে যান ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ, পেশাদারেরা। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সাল থেকে এই ভিসা ফি বৃদ্ধি হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে এনে কর্মী নিয়োগ (আউটসোর্স) কমিয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, ২০২৫ সালের প্রোক্লেমেশন কার্যকর হওয়ার পর বড় তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং সংস্থাগুলির এইচ-১ বি রেজ়িস্ট্রেশন ৯২ শতাংশ কমেছে।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমেরিকায় বিদেশি স্টেম (এসটিইএম বা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, অঙ্ক) কর্মীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। যেখানে মোট স্টেম এমপ্লয়েমেন্ট বেড়েছে ৪৪.৫%। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তার জেরে কাজ হারিয়েছেন আমেরিকানরা।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের সরকার নতুন এইচ-১বি কর্মীর ক্ষেত্রে এক লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা )-এর এককালীন পেমেন্টের শর্ত চালু করে। সেই নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ফি আরও বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করেছিল। তার মধ্যেই আবার এইচ-১বি ভিসার জন্য বর্ধিত ফি-র মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকায় কাজ করার জন্য অন্যতম উপায় এই এইচ-১বি ভিসা। ন্যূনতম স্নাতক ছাড়া এই ভিসার জন্য আবেদন করা যায় না। সারা পৃথিবী থেকে এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশ ভারতীয়। ২০২৪-২৫-এর হিসাব বলছে, সেই আর্থিক বছরে যে ৪ লক্ষ ৬৩৪৮ জন এইচ-১বি ভিসা পেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭৭২ জন ভারতীয় কর্মী।
নতুন ফি কার্যকর হলে একজন কর্মীর অভিজ্ঞতার স্তর অনুযায়ী ন্যূনতম বেতন বেড়ে যাবে। ভিসা নিয়ে আমেরিকায় কাজ করতে যাওয়া কর্মীদের মাইনে এত বেড়ে গেলে মার্কিন সংস্থাগুলি বিদেশি কর্মী উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা অনাবাসী ভারতীয় মহলে।