এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১০৩,২৬৫ মার্কিন ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৯৮ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা। এ বার ভিসার ফি বৃদ্ধি পেলে আমেরিকায় যেতে চাওয়া অভিবাসীদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন এবং জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিপাকে পড়তে পারেন ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তিকর্মীরা।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের সরকার এই ভিসার ফি এক লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা ) ধার্য করার চেষ্টা করলে আদালত তা খারিজ করে। আগে এই ভিসার ফি ছিল ৩০০০ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা।
সোমবার ট্রাম্পের প্রশাসন ফি বৃদ্ধি করার প্রস্তাব প্রকাশ করে জানিয়েছে, সে দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য ওই টাকা কাজে লাগবে। প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, এই ফি ধার্য করা হলে মার্কিন সংস্থাগুলি সে দেশের নাগরিকদেরই নিয়োগে জোর দেবে। তাঁদের আরও বেশি করে বেতনও দেবে। এখনই এই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। এই নিয়ে জনগণকে নিজেদের মতামত জানাতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া এই প্রস্তাব বেশ কিছু আইনি বাধার মুখে পড়তে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এই প্রস্তাব প্রসঙ্গে এক্স অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘‘আমেরিকান সংস্থা কর্মী নিয়োগ করতে চাইলে আমেরিকানদেরই নিতে হবে।’’
উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি নাগরিকদের দীর্ঘ মেয়াদে আমেরিকায় কাজ করার জন্য কার্যত একমাত্র উপায় এই এইচ-১বি ভিসা। ন্যূনতম স্নাতক ছাড়া এই ভিসার জন্য আবেদন করা যায় না। এই সারা পৃথিবী থেকে এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশ ভারতীয়। ২০২৪-২৫-এর হিসাব বলছে, সেই আর্থিক বছরে যে ৪ লক্ষ ৬৩৪৮ জন এইচ-১বি ভিসা পেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭৭২ জন ভারতীয় কর্মী।
নতুন ফি কার্যকর হলে এক জন কর্মীর অভিজ্ঞতার স্তর অনুযায়ী ন্যূনতম বেতন ২১% থেকে ৩৩% পর্যন্ত বেড়ে যাবে। ভিসা নিয়ে আমেরিকায় কাজ করতে যাওয়া কর্মীদের মাইনে এত বেড়ে গেলে মার্কিন সংস্থাগুলি বিদেশি কর্মী উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা অনাবাসী ভারতীয় মহলে।