পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদীদের যে ‘শত্রু’ হিসাবেই দেখে ইসলামাবাদ, তা স্পষ্ট করে দিলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। জানিয়ে দিলেন, অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার কোনও সম্ভাবনাই নেই। খোয়াজার কথায়, “আমি অধিকৃত কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীদের এবং ভারতকে একই শ্রেণিতে রাখি এবং ভারতের মতোই শত্রু হিসেবে গণ্য করি।”
নিজেদের অধিকারের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে অধিকৃত কাশ্মীরের নাগরিক সমাজ। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত পাক-অধিকৃত কাশ্মীর। অর্থনৈতিক সঙ্কট, সাধারণ নাগরিকদের প্রতি বঞ্চনা, একের পর এক বিধিনিষেধ চাপানোর জেরে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। তার উপরে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা এই বিক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এরই মধ্যে ভোট শুরু হয়েছে অধিকৃত কাশ্মীরের। গত সোমবার প্রথম দফার ভোট ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়ায়।
সোমবার এবং মঙ্গলবারের মধ্যে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন প্রতিবাদী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। পাকিস্তানি সেনার সহায়তায় ভোটে কারচুপি করারও অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাওয়ালকোট থেকে মুজ়ফ্ফরাবাদের দিকে মিছিল করে প্রতিবাদী নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’। এই সংগঠনকেও কয়েক মাস আগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।
সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার প্রশ্ন করা হয় পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজাকে। জানতে চাওয়া হয়, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার কোনও আলোচনায় বসতে চায় কি না। তবে অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদীদের সঙ্গে কোনও আলোচনায় যে ইসলামাবাদ রাজি নয়, তা স্পষ্ট করে দেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে এ-ও জানান, তিনি ভারতকে যে ভাবে দেখেন, অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদীদেরও তেমনই ‘শত্রু’ বলে মনে করেন।
আরও পড়ুন:
পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ইসলামাবাদের দমনপীড়ন নিয়ে আগেই মুখ খুলেছে নয়াদিল্লি। জানিয়েছে, অধিকৃত কাশ্মীরের সাধারণ জনতার ক্ষোভ আসলে ইসলামাবাদের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক নিপীড়নের প্রতিফলন। কাশ্মীরের ওই অংশ যে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং সেটি পাকিস্তান অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছে, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ভারত।
অধিকৃত কাশ্মীরের নির্বাচনকেও ‘লোকদেখানো ভোট’ বলে কটাক্ষ করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ওই নির্বাচন অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান বদলাতে পারবে না। এই ভোটকে অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারি এবং মানবাধিকার হরণকে ঢাকার চেষ্টা বলেই ব্যাখ্যা করছেন তিনি।