আমেরিকায় ৯/১১ সন্ত্রাসের ২৫ বছর পূর্তির আর মাত্র দু’সপ্তাহ বাকি। তার আগে ঘোষণা হল মূলচক্রী খালিদ শেখ মহম্মদ ও তাঁর তিন সঙ্গীর বিচারের দিন। ২০২৮ সালের ৫ জুন গুয়ান্তানামো বে-তে তাঁদের বিচার শুরু হওয়ার কথা। গত ২০ বছর ধরে কিউবার গুয়ান্তানামো বে কারগারে বন্দি পাক বংশোদ্ভূত জঙ্গি খালিদ এবং তাঁর তিন সঙ্গীর বিচার শুরুর দিন নির্ধারণের কথা মঙ্গলবার জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
প্রকাশিত খবরে দাবি, নাইন-ইলেভেন সন্ত্রাসের প্রায় ২৭ বছর পরে ২০২৮ সালের ৫ জুন মার্কিন সামরিক আদালতে খালিদদের বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে! ২০০৩-এর মার্চে আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র ‘স্পেশাল অ্যাক্টিভিটিজ ডিভিশন’ পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি থেকে গ্রেফতার করেছিল খালিদকে। প্রথমে সিআইএ-র গোপন কারাগারে এবং পরে ২০০৬ সালে গুয়ানতানামো বে-তে স্থানান্তর করা হয়েছিল তাঁকে। মার্কিন আদালতের প্রসিকিউটররা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মামলার বিভিন্ন আইনি ও প্রমাণ সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে সামরিক আদালতের বিচারক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল এ শ্রামা ওই প্রস্তাব নাকচ করেন। তার পরে তিনি নতুন তারিখের কথা ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
তবে প্রকাশিত খবরে দাবি, আইনি প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার উপরই খালিদদের বিচার শুরু নির্ভর করছে। এর আগে এক বার ২০২১ সালে বিচারের দিন নির্ধারিত হলেও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তা মুলতুবি হয়ে যায়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রের টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগনে বিমানহানার পিছনে নিজের ভূমিকার কথা আগেই স্বীকার করেছিলেন খালিদ। ২০০৬ সালে আমেরিকার একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলবন্দি খালিদ জানিয়েছিলেন, তিনি ৯/১১ হামলার অন্যতম চক্রী। আমেরিকায় মুসলিমদের প্রতি নানা ‘অন্যায় আচরণ’ তাঁকে প্রতিশোধ নিতে প্ররোচিত করেছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
৯/১১ হামলায় নিহত ২,৯৭৭ জনের হত্যার অভিযোগ-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে খালিদের বিরুদ্ধে। দু’দশক আগেই অবশ্য তাঁর সম্ভাব্য ‘পরিণতি’র কথা জানিয়েছিলেন খালিদ। ২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি চিঠিতে খালিদ লিখেছিলেন, বলেছিলেন, ‘‘বাকি জীবনটা যদি জেলবন্দি থাকতে হয় তবে আল্লাহ্র নাম করেই কাটিয়ে দেব। আর যদি আমেরিকা প্রাণদণ্ড দেয়, তবে আল্লাহ্র সঙ্গে আমার দেখা হবে।’’ গুয়ান্তানামো জেল থেকে ২০১৫ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন খালিদ। সেখানে ওসামা বিন লাদেনের হত্যা প্রসঙ্গে লিখেছিলেন, ‘ওবামা এক জন দক্ষ আইনজীবী। মানবাধিকার প্রসঙ্গে যাঁর প্রভূত জ্ঞান। কিন্তু তিনি শত্রুর বিচার হওয়ার আগেই তাঁকে মেরে সমুদ্রে ফেলে দেন। শত্রুকে এক জন মানুষের সম্মানটুকু দেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেন না।’’ ওই চিঠিতে আমেরিকাকে ‘নিপীড়ন ও অপশাসনের দেশ’ বলে উল্লেখ করে খালিদ লিখেছিলেন, ‘‘লড়াইটা আমরা শুরু করিনি। আমাদের দেশে তোমরা, তোমাদের শাসকরা লড়াইটা শুরু করেছিল।’’