টলিপাড়ার শান্তশিষ্ট কন্যা। এক কথায় যাকে তথাকথিত ‘লক্ষ্মীমেয়ে’ বলা যায়, তিনি ঠিক তেমনই। টলিপাড়ার অন্যতম পরিচিত মুখ এনা সাহা স্বভাবে শান্তশিষ্ট হলেও আদতে তিনি কতটা সাহসী? ‘ভূতচতুর্দশী’ খ্যাত অভিনেত্রী কখনও কি ভূতে ভয় পেয়েছেন? নিজে কতটা বিশ্বাস করেন ভূতে?
আনন্দবাজার ডট কম-কে অভিনেত্রী এনা জানান, তিনি ভূতে বিশ্বাস করেন। এ রকম বহু বার হয়েছে, যেখানে তিনি ও তাঁর বন্ধুরা একসঙ্গে অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন। বাস্তবে যা সম্ভব নয়, তেমন বেশ কিছু ঘটনার তিনি সাক্ষী বলে দাবি করেছেন এনা।
অভিনেত্রীর কথায়, " ভূত চতুর্দশী-র শ্যুটিংয়ের সময়ে বোলপুরের একটা বাড়িতে শ্যুট চলছিল। অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়েছিল সেখানে। আমি তো বটেই, আরিয়ান এবং আরও যারা সহ-অভিনেতা অভিনেত্রীরা ছিল, সকলেই কেমন একটা স্যাতস্যাঁতে ভাব আর গন্ধ অনুভব করেছে। কিছু ভাল লাগছিল না ওই মুহূর্তে। খুব অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করছিল, যেটা স্বাভাবিক নয়। এত জায়গায় তো শ্যুটিং করেছি, কিন্তু এমনটা কখনও মনে হয়নি। জানি না কেন ওই গন্ধটা পেয়েছিলাম আমরা। ও রকম অদ্ভুত অনুভূতিই বা হচ্ছিল কেন, তা-ও বুঝিনি। কিন্তু যেটাই হচ্ছিল, সেটা ঠিক হচ্ছিল না। ভয় আমরা একা একা কেউ আর ওই দিকে যাইনি।"
এনার অভিজ্ঞতায় অদ্ভুত কিছু ঘটনা রয়েছে আরও। অভিনেত্রী এবং তাঁর বন্ধুরা মিলে এক বন্ধুর ফার্ম হাউসে বেড়াতে যান। সেখানে রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে যখন প্রত্যেকে নিজেদের ঘরে শুতে যাওয়ার তোড়জোড় করছে, তখনই শুরু হয় এক অদ্ভুত কাণ্ড। এনা বলেন, " সেই রাতে ওই ফার্ম হাউসে আমরা প্রত্যেকে কিছু না কিছু অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি। বাথরুমে কেউ নেই, অথচ হঠাৎ করেই কল থেকে জল পড়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। রান্নাঘরে বা ডাইনিংয়ে কেউ ছিল না, অথচ হঠাৎ করে একটা বাসন পড়ে যাওয়ার আওয়াজ এল। ফার্ম হাউসের নানা দিকে নানা ঘটনা ঘটছিল। আমরা সব বন্ধুরা মিলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। বাথরুমে যাই, রান্নাঘরে যাই, কাউকেই আর দেখতে পাই না। বাথরুমের কল বন্ধ করার পরেও সেখান থেকে আবারও জল পড়া শুরু হচ্ছিল। সকলেই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। সে রাতটা কী ভাবে কাটিয়েছিলাম শুধু আমরাই জানি। অত জন বন্ধু মিলে একটামাত্র ঘরে কেউ খাটে, কেউ মেঝেতে শুয়ে, বসে রাতটা কোনও ভাবে কাটাই। পরদিন সকাল সকাল সেখান থেকে ওই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসি।"
এনা জানান, এই ঘটনার পরে তিনি ও তাঁর সকল বন্ধুরা সকলেই রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। আজও তাঁরা বুঝতে পারেন না, ওই রাতের ঘটনাগুলো কী ভাবে এবং কেন ঘটেছিল।
এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ।