দেবতা ও অসুরদের মধ্যে হয়েছিল ‘সমুদ্র মন্থন’। সেই পৌরাণিক আখ্যানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অমৃতের সন্ধান। আর সেই সূত্রেই কুম্ভমেলার মাহাত্ম্য। তবে পুণ্যস্নানের টানে প্রয়াগরাজ বা হরিদ্বারে ছুটে যাওয়ার সুযোগ কি সকলের হয়? যাঁদের সেই সুযোগ নেই, তাঁদের জন্য খাস কলকাতাতেই কুম্ভমেলার আবহ নিয়ে হাজির নিউটাউনের ডিবি ব্লকের দুর্গাপুজো।
বিগত এক দশক ধরে সাবেক সাজে দেবীকে বরণ করে এসেছে এই পুজো। তবে দশম বর্ষে এসে চেনা ছন্দে বদল। এ বার পুজো কমিটির ভাবনা ‘অমৃত মহোৎসব’। এই প্রথম থিমের পুজো উদ্যাপন করছে তারা। কুম্ভমেলার আবহকে মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেই তাক লাগানোর আয়োজন।
নিউটাউন ডিবি ব্লকের দুর্গাপুজো, ছবি সংগৃহীত
মণ্ডপসজ্জার পরতে পরতে ধরা পড়েছে সেই ভাবনা। কোথাও ডুগডুগি হাতে দাঁড়িয়ে মুনিঋষি, কোথাও আবার কমণ্ডলু থেকে গড়িয়ে পড়ছে জলের ধারা। সব মিলিয়ে মণ্ডপে তৈরি হয়েছে কুম্ভমেলার পরিবেশ। পুজো উদ্যোক্তা মৃন্ময় চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, কুম্ভের মেলার আবহকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপে। পুরোপুরি মেলা না বসলেও থিমের আমেজে কোনও খামতি রাখতে চাননি তাঁরা। তাই এ বারের পুজোর হ্যাশট্যাগ ‘কুম্ভের কলকাতা’। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সাজানো হয়েছে প্রতিমাও।
সর্বজনীন পুজো হলেও এত বছর ধরে এই পুজোর আয়োজন হয়ে এসেছে একেবারে বাড়ির পরিবেশে। পারিবারিক সেই ছোঁয়াই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব। দশমীর ভোগেও থাকে চমক। পান্তা ভাত, কচু শাক আর চালতার টক— এই পদগুলিই দেবীর ভোগে নিবেদন করা হয়। থিমের নতুনত্বের পাশাপাশি চেনা ঘরোয়া স্বাদেও অটুট থাকে পুজোর নিজস্বতা।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।