দুর্গাপুজোর আবহে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রযুক্তি আর শিল্পের মেলবন্ধন। কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কের মণ্ডপে এ বার সেই ভাবনাকেই অন্য মাত্রা দিল ‘হিরো মোটোকর্প’। পুজো উপলক্ষে সংস্থার উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল এক অভিনব শিল্পকর্ম, ‘শ্যাডোগ্রাফি’ বা ছায়াশিল্প। আলো-ছায়ার সেই খেলায় বাইকের যন্ত্রাংশ থেকেই ফুটে উঠেছিল দেবী দুর্গার অবয়ব। উৎসবের দিনগুলিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ দর্শনার্থী এসেছিলেন এই মণ্ডপে।
পুরো শিল্পকর্মের কেন্দ্রে ছিল দেবীশক্তির আবাহন। তবে এই প্রদর্শনীর বিশেষত্ব ছিল তার নির্মাণকৌশলে। ১২৫ সিসি-র ‘হিরো গ্ল্যামার এক্স’ বাইকের যন্ত্রাংশ দিয়ে সাজানো হয়েছিল কোলাজটি। প্রতিটি অংশ এমন সূক্ষ্মভাবে সাজানো হয়েছিল যে, তার উপর আলো পড়তেই পিছনের দেওয়ালে ফুটে উঠত দেবী দুর্গার ছায়ামূর্তি। দশ হাতে দশ অস্ত্র, হাতে ত্রিশূল—দশভুজার সেই ছায়ারূপ দেখতে মণ্ডপে ভিড় জমিয়েছিলেন দর্শনার্থীরা।
শুধু দৃশ্যের অভিনবত্বেই থেমে থাকেনি এই আয়োজন। উপযুক্ত আলো ও শব্দের ব্যবহারে মণ্ডপে তৈরি করা হয়েছিল এক অন্য রকমের অভিজ্ঞতা। দেবীকে প্রণাম জানানোর পাশাপাশি দর্শনার্থীরা যেন উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির পিছনে কতটা সূক্ষ্ম কারিগরি ও প্রযুক্তির প্রয়োগ থাকে।
আরও পড়ুন:
এই উদ্যোগের ভাবনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হিরো মোটোকর্পের মার্কেটিং প্রধান আশীষ মিধা জানান, ভারতীয় সংস্কৃতিতে দেবীশক্তিকেই সমস্ত শক্তি ও সৃষ্টির মূল বলে মনে করা হয়। বাইকের প্রতিটি যন্ত্রাংশ তৈরির পিছনেও রয়েছে ক্ষমতা ও কারিগরির প্রয়োগ। সেই শক্তির সঙ্গেই দেবীশক্তির যোগসূত্র খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছে সংস্থা। পুজোর আবহে প্রযুক্তিকে এক দৈবিক রূপ দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের ভাবনা।
উৎসবের দিনগুলিতে দেশপ্রিয় পার্কের মণ্ডপে আসা সমস্ত দর্শনার্থীর জন্যই খোলা রাখা হয়েছিল হিরো মোটোকর্পের এই বিশেষ প্রদর্শনী। প্রযুক্তি, শিল্প ও উৎসবের মেলবন্ধনে দেবী দুর্গার ছায়ামূর্তি হয়ে উঠেছিল এ বারের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ।
(এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)