সপ্তমীর সন্ধ্যায় উপচে পড়ছে ভিড়। তার সঙ্গে দোসর বৃষ্টি। চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার জেরে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। খাতায়-কলমে মৃতের সংখ্যা ১৯। গত শনিবার রাতের সেই ঘটনার পর পুজো উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কতটা সতর্ক তাঁরা? ভিড় সামলাতে কী কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আনন্দবাজার ডট কমের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল যোধপুর পার্ক শারদীয়া উৎসব পুজো কমিটির সঙ্গে।
এ বছর ৭৫তম বর্ষে যোধপুর পার্কের বিশেষ নিবেদন চলমান দেবী প্রতিমা। এমন অভিনব উপস্থাপনা দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় হওয়াই স্বাভাবিক। তবে চোরবাগানের ঘটনার পর সেই ভিড় সামলাতে কী ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন উদ্যোক্তারা?
কমিটির সদস্য সুমন্ত রায়ের কথায়, মণ্ডপের পরিসর বড় হওয়ায় ভিতরে যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। কিন্তু এ বছরও দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। তাই সকাল থেকেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনায় বদল আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ঠিক করেছি, চ্যানেল করে দর্শকদের ভিতরে ঢোকাব। একই ভাবে তাঁরা বাইরে বেরোবেন। আমরা ঠাকুর দেখাব, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ মানুষকে দেব না। ১০-১৫ জন মিলে এক জায়গায় জমায়েত হবেন বা ছবি তুলবেন, সেই সুযোগ নেই।”
সুমন্ত জানান, ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। প্রশাসনের তরফে দেওয়া নির্দেশিকা মেনেই চলার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “মানুষ তো মণ্ডপে ঢুকে কিছুক্ষণ দাঁড়াবেনই। কিন্তু ভিড় এড়াতে একসঙ্গে ১৫-২০ জনকে আমরা ঢুকতে দেব না। খুব বেশি হলেও দুই থেকে তিন জন। আমাদের দু’টি বেরোনোর রাস্তা রয়েছে প্রথম থেকেই। যেমন ভাবেই হোক, মানুষকে ঢোকা আর বেরোনোর জায়গা দিতে হবে।”
কিন্তু চোরবাগানের ঘটনা থেকে কী শিক্ষা নিলেন দর্শনার্থীরা? আদৌ কি ভিড়ের মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন হচ্ছেন তাঁরা? সুমন্তের মতে, ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। মণ্ডপে ঢোকার আগে নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ ভাবনাচিন্তা করেন না অধিকাংশ দর্শনার্থী। তাই সচেতনতা তৈরির দায়িত্ব পুজো কমিটিগুলিকেও নিতে হবে।
সুমন্ত বলেন, “তাঁরা যাতে বেশিক্ষণের জন্য না দাঁড়ান বা জমায়েত না হন, এই ধারণাটা দর্শনার্থীদের মধ্যে কমিটিকেই তৈরি করে দিতে হবে। গল্প, আড্ডা, খাওয়াদাওয়া— যা করতে হবে, প্যান্ডেলের বাইরে।”
ভিড় সামলাতে মণ্ডপে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ আলাদা রাখার উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি। সুমন্তের কথায়, “শুরু থেকেই আমরা ভিড় এড়াতে দু’টি গেটের ব্যবস্থা রাখি। অন্যান্য পুজো মণ্ডপগুলিতেও এমন ব্যবস্থা থাকলে পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দেওয়া যাবে। ঢোকার রাস্তা একটি হলেও বেরোনোর যেন অতিরিক্ত রাস্তা থাকে। সে ক্ষেত্রে একসঙ্গে মণ্ডপে ৫০ জন ঢুকলেও ক্ষতি নেই। দু’টি গেট দিয়ে ২৫-২৫ জন করে বের করে দেওয়া যাবে মানুষকে।”
চোরবাগানের ঘটনার পর উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাও যে পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে বড় দায়িত্ব, যোধপুর পার্কের এই প্রস্তুতি সেই প্রশ্নকেই সামনে আনছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ নির্দিষ্ট করা এবং দর্শনার্থীদের সচেতন করা— এই তিন বিষয়েই এখন বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ।