গোটা উৎসবের মরসুম জুড়ে যে ঠাকুরদালানে ছিল সাজ সাজ রব, দশমীর সকালে সেখানেই বিষাদের সুর। সল্টলেকের ‘মৌ-এর দুর্গাবাড়ি’তে উৎসবের শেষ দিন মানেই উমাকে বিদায় জানানোর পালা। গত বছর যে ঐতিহ্যের পথচলা নতুন করে শুরু হয়েছিল, এ বছর তা পা দিল দ্বিতীয় বর্ষে। ঐতিহ্য, পরম্পরা আর বাঙালিয়ানার মেলবন্ধনে এ বারও জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়েছে দুর্গোৎসব। তবে উৎসবের রেশ কাটতেই ঠাকুরদালান জুড়ে নেমে এল বিদায়ের বিষাদ।
সল্টলেকের জিডি-২৭৯, সেক্টর ৩-এ অবস্থিত এই বাসভবনের দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় তিনশো বছরের পারিবারিক ঐতিহ্য। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সেই পরম্পরাই নতুন করে প্রাণ পেয়েছে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ সত্যম রায়চৌধুরীর হাত ধরে। সল্টলেকে তাঁর বাসভবন ‘মৌ-এর দুর্গাবাড়ি’র ঠাকুরদালানে আবার শুরু হয়েছে মাতৃআরাধনা। অতীতের উত্তরাধিকারকে সঙ্গী করেই সেখানে নতুন করে উদ্যাপিত হচ্ছে দুর্গোৎসব।
বিজয়া দশমীর সকালে পরিবারের সদস্যেরা একত্রিত হন ঠাকুরদালানে। চিরাচরিত রীতি মেনে শুরু হয় সিঁদুরখেলা। উৎসবের আবহে মেতে ওঠেন সকলে। তার পর আসে প্রতিমা নিরঞ্জনের পালা। ঢাকের বাদ্যি আর মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যেই ধীরে ধীরে ঘনিয়ে ওঠে বিদায়ের মুহূর্ত। আনন্দের রেশ ছাপিয়ে ঠাকুরদালানে তখন বিষাদের সুর।
আরও পড়ুন:
সল্টলেকের এই বাড়ির দুর্গোৎসব তাই কেবল পুজোর আয়োজন নয়, পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোরও এক আন্তরিক প্রয়াস। অতীতের উত্তরাধিকারকে আঁকড়ে ধরেই সমসাময়িক উদ্যাপনের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে ‘মৌ-এর দুর্গাবাড়ি’। বিজয়া দশমীর বিদায়বেলায় সেই ঐতিহ্যই যেন হয়ে উঠল উৎসবের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।