পুজোর পরেও হাতে ছুটি? পকেট বাঁচিয়ে সাত দিন কাটুক শ্রীলঙ্কায়, দু’জনের খরচা কত?
ডাচ আমলের দুর্গশহর, সমুদ্রের পাশে পাথর বাঁধানো রাস্তা, পুরনো বাড়ি, ছোট্ট ক্যাফে— হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে, শ্রীলঙ্কার আরও কত কিছুই না দেখা বাকি রয়ে গেল!
পুজো শেষ। তবু ছুটির ক্যালেন্ডারে এখনও বেশ কয়েকটা দিন বাকি। বিদেশ বেড়িয়ে আসবেন নাকি একটু? সবে পুজোর খরচের ধাক্কা সামলে এখন এমন কথা শুনে বাড়ির লোক আঁতকে উঠতেই পারেন। কিন্তু বিদেশ মানেই যে লক্ষ টাকার ধাক্কা, তা তো নয়!
এই যেমন শ্রীলঙ্কা। ভারতের দক্ষিণে ভারত মহাসাগরের বুকে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র। আয়তনে পশ্চিমবঙ্গের চেয়েও ছোট। অথচ সমুদ্র, পাহাড়, জঙ্গল, চা-বাগান, প্রাচীন রাজপ্রাসাদ— সবই আছে ভাঁড়ারে। দু’জনে মিলে সাত দিনের ছুটি কাটানোর জন্য বেশ লোভনীয়।
কলম্বো বিমানবন্দরে নেমে প্রথম রাতটা কাটুক কাছের সমুদ্রশহর নেগোম্বোতে। এক সময়ে পর্তুগিজ ও ডাচ বণিকদের ঘাঁটি ছিল এখানে। আজও মাছধরা নৌকা, পুরনো গির্জা আর জমজমাট মাছের বাজার শহরটার পরিচয়।
বিকেলে নেগোম্বোর সৈকতের ধারে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে চলুন আলসে মেজাজে। নোনা হাওয়ায় শুকনো মাছের গন্ধ ভেসে আসবে। রাতে স্থানীয় কোনও খাবারের দোকানে নারকেলের সাম্বল, ভাত আর ঝাল মাছের কারি।
আরও পড়ুন:
পরদিন চলুন দেশের মধ্যভাগে, ডাম্বুলায়। পাহাড়ের গায়ে প্রাচীন বৌদ্ধ গুহামন্দিরের জন্য বিখ্যাত এই অঞ্চল। কাছেই সিগিরিয়া, বিশাল এক পাথরের মাথায় পঞ্চম শতকের রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ।
তবে সিগিরিয়ার প্রবেশমূল্য বেশ চড়া। এ ক্ষেত্রে তাই বাজেট-বন্ধু হতে পারে পাশের পিদুরাঙ্গালা পাহাড়। অল্প খরচে উপরে উঠলেই হল। নীচে সিগিরিয়ার দুর্দান্ত দৃশ্যপট সাজানো।
তৃতীয় দিনে গন্তব্য ক্যান্ডি। পাহাড়ঘেরা হ্রদের শহরটা এক সময়ে ছিল শ্রীলঙ্কার শেষ রাজাদের রাজধানী। এখানকার বিখ্যাত বৌদ্ধ মন্দিরে সংরক্ষিত রয়েছে বুদ্ধের দাঁতের স্মৃতিচিহ্ন। সন্ধ্যায় হ্রদের ধারে একটু হাঁটাহাঁটি, তার পরে রাস্তার দোকানে ডিমভরা বাটির মতো হপার্স। সঙ্গে ঝাল চাটনি হলে তো কথাই নেই!
আরও পড়ুন:
চতুর্থ দিনে পাহাড়ি পথ ধরে সোজা এলা। শ্রীলঙ্কার চা-বাগানের দেশে ছোট্ট এক পাহাড়ি জনপদ। রাস্তার দু’পাশে চায়ের ঝোপ, কুয়াশা আর সবুজ ঢাল। সম্ভব হলে নানু ওয়া থেকে এলা পর্যন্ত পাহাড়ি ট্রেনযাত্রাও এই সফরের অংশ হোক।
পরদিন সকালের জন্য তোলা থাক লিটল অ্যাডামস পিকের সহজ ট্রেক। তার পরে জঙ্গলের সবুজে ঘেরা বিখ্যাত নাইন আর্চ ব্রিজ। বিকেলে গেস্টহাউসের বারান্দায় সিলন চা আর গরম রুটি। জমে যাবে!
ষষ্ঠ দিনে পাহাড় থেকে সোজা দক্ষিণের সমুদ্রতটে। মিরিসা ছোট্ট সৈকতশহর, যেখানে দিন কাটে ঢেউ, নারকেল গাছ আর মাছধরা নৌকাদের সঙ্গে। সন্ধ্যায় সমুদ্রের ধারে বসে গ্রিল করা মাছ খাওয়ার আনন্দই আলাদা।
শেষ দিনে ফেরার পথে গল। ডাচ আমলের দুর্গশহর, সমুদ্রের পাশে পাথর বাঁধানো রাস্তা, পুরনো বাড়ি, ছোট্ট ক্যাফে— হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে, শ্রীলঙ্কার আরও কত কিছুই না দেখা বাকি রয়ে গেল!
যাতায়াত ও খরচ: কলকাতা থেকে কলম্বো যাওয়া-আসা মিলিয়ে বিমানভাড়া দু’জনের আনুমানিক ৬৫০০০–৮০,০০০ টাকা। স্থানীয় বাস-ট্রেন, সাধারণ গেস্ট হাউস, খাওয়া ও ঘোরাঘুরি মিলিয়ে আরও ৩০,০০০–৪০,০০০ টাকা।
মোট বাজেট: দু’জনে মিলে প্রায় ১,২০,০০০ টাকা। আগাম বুকিংয়ে খরচ কমতে পারে। ফেরার দিনের বিমান ধরতে গল থেকে কলম্বো বিমানবন্দরে পৌঁছনোর জন্য যথেষ্ট সময় হাতে রাখা জরুরি।
ভাবছেন, এইটুকুতে মন ভরল না? শ্রীলঙ্কার সবটুকু কি আর ঠিক মতো দেখা হয়ে উঠল? কুছ পরোয়া নেই। আবার আসবেন না হয়! নতুন করে ছোট্ট দেশটাকে ফিরে দেখতে।