E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

আয়কর আর জিএসটি কমলেও সব দাবি মেটেনি

আশঙ্কা ছিল, কেন্দ্র জিএসটি-র হার ছাঁটায় আদায় কমতে পারে। বাস্তবে বিপুল গতিতে বেড়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, আগে কেন কর কমিয়ে মানুষের বোঝা হালকা করা হয়নি? তা আরও কমানোর জায়গা আছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৬

—প্রতীকী চিত্র।

একটি অর্ডিন্যান্স জারি করে ২০১৯-এর সেপ্টেম্বরে কমানো হয়েছিল কোম্পানি আয়কর। তার পরে ব্যক্তিগত আয়কর কমানোরও দাবি ওঠে। গত অর্থবর্ষ (২০২৫-২৬) থেকে করমুক্ত আয়ের সীমা ১২ লক্ষ টাকা (রিবেট-সহ) করে কেন্দ্র। অভিযোগ ছিল কিছু পণ্য-পরিষেবায় অত্যধিক জিএসটি চাপানোরও। গত সেপ্টেম্বরে বহু পণ্যে এই পরোক্ষ কর কমানোর ব্যবস্থা করা হয়। তবে এতে আয়কর এবং জিএসটি নিয়ে সব দাবি মিটে গিয়েছে ভাবলে ভুল হবে। বরং এখনও অনেকগুলি মানুষের মনে ঘুরছে এবং সময়ে সময়ে প্রকাশ পাচ্ছে। সেগুলিই এক নজরে দেখে নেব।

আশঙ্কা ছিল, কেন্দ্র জিএসটি-র হার ছাঁটায় আদায় কমতে পারে। বাস্তবে বিপুল গতিতে বেড়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, আগে কেন কর কমিয়ে মানুষের বোঝা হালকা করা হয়নি? তা আরও কমানোর জায়গা আছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

২০২০-তে অতিমারির সময়ে ট্রেনের টিকিটে প্রবীণদের ছাড় বন্ধ করা হয়। ছ’বছর অতিক্রান্ত। সুবিধাটি ফেরেনি। তথ্য জানার অধিকার আইনে করা প্রশ্নের উত্তরে প্রকাশ, ২০২০-র মার্চ থেকে ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছরে ৩১.৩৫ কোটি প্রবীণ নাগরিক ট্রেনে সফর করেছেন। টিকিটে খরচ করেছেন ২০,১৩৩ কোটি টাকা। ছাড় না থাকায় লোকসান গুনেছেন ৮৯১৩ কোটি। বছরে সরকার বাঁচিয়েছে ১৭৮৩ কোটি। ঋণ মকুব, দান খয়রাতি, নানা রকমের ভাতা দিতে যখন তারা দু’হাত খুলে খরচ করছে, তখন বয়স্কদের থেকে টাকাটা না নিলেই নয়? ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি বলে গর্ব করা হয়। ছোট-মাঝারি বহু দেশ কিন্তু প্রবীণদের এই সুবিধা দিয়ে থাকে।

২০২৪-এ শেয়ারের উপর স্বল্প এবং দীর্ঘকালীন মূলধনী লাভ কর বাড়ে। সেই বছরের শেষ থেকেই ঝিমিয়ে সূচক। টানা বেরিয়ে যাচ্ছে বিদেশি লগ্নি। চড়া মূলধনী লাভ কর এর অন্যতম কারণ। দাবি উঠেছে, এই কর যেন দেশি-বিদেশি সব লগ্নিকারীর জন্য কমানো হয়। কমানো হোক শেয়ার লেনদেন করও (এসটিটি)।পিএফের অধীনে সরকারি কর্মী পেনশন স্কিম, ১৯৯৫ (ইপিএস ৯৫) প্রকল্পে সদস্য ৮২ লক্ষ। তাঁদের ন্যূনতম মাসিক পেনশন হাজার টাকা থেকে বাড়ানোর দাবি পূরণ হয়নি এখনও। পেনশন সংগঠনের বক্তব্য, তা মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কয়েক গুণ বাড়াতে হবে এবং ডিএ-কে তার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমলেও ভারতে পেট্রল-ডিজ়েলের দর সহজে কমে না। অথচ আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ে। বাজারে তেলের দাম চড়া থাকলেও তেল বিপণন সংস্থাগুলি মোটা মুনাফা কামাচ্ছে। তাই দাবি উঠেছে, তেলে কর কম নিক সরকার। সাধারণ মানুষই কেন শুধু লোকসানের বোঝা বইবেন?

(মতামত ব্যক্তিগত)

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Tax GST

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy