Advertisement
E-Paper

গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া সেভিংস, স্থায়ী আমানত থেকে গায়েব ৩৫ কোটি টাকা! পিএনবিতে ফের অনিয়ম, বরখাস্ত ম্যানেজার-সহ পাঁচ

একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, তাঁরা এই লেনদেনগুলির কোনও অনুমোদন দেননি। এমনকি তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানো হলেও, এ বিষয়ে কোনও সতর্কবার্তা বা তথ্য পাননি বলেও দাবি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০০

ছবি: সংগৃহীত।

গ্রাহকের সম্মতি বা কোনও নথিপত্রে অনুমতি স্বাক্ষর ছাড়াই সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও স্থায়ী আমানত থেকে কোটি কোটি টাকা উধাও। তাও আবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে! অভিযোগ, গ্রেটার নয়ডায় পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে (পিএনবি) বেশ কিছু গ্রাহকের কয়েক বছরের সঞ্চয় তুলে নেওয়া হয়েছে। ব্যালেন্স দেখতে গিয়ে বা টাকা তুলতে গিয়ে বিষয়টি নজরে পড়ে তাঁদের। গোটা ঘটনায় শোরগোল পড়েছে গ্রাহকমহলে। অভিযোগ, এচ্ছর এলাকায় পিএনবির একটি শাখায় সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও ফিক্সড ডিপোজিট থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খোয়া গিয়েছে।

একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, তাঁরা এই লেনদেনগুলির কোনও অনুমোদন দেননি। এমনকি তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানো হলেও, এ বিষয়ে কোনও সতর্কবার্তা বা বিজ্ঞপ্তি পাননি বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। গ্রাহক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই শাখা ব্যবস্থাপক বা ম্যানেজার-সহ বেশ কয়েক জন কর্মীকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে বলে খবর। হানিফ খান নামের এক গ্রাহক সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কের এই শাখায় তাঁর সেভিংস অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ছিল। ব্যালেন্স দেখতে গিয়ে দেখেন তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে সঞ্চয়ের পুরোটা উধাও হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, এই টাকা স্থানান্তর করার কোনও অনুমোদন তিনি দেননি। এমনকি তিনি কোনও নথিতেও স্বাক্ষর করেননি। আরও এক গ্রাহক বিজেন্দ্র সিংহ সাংবাদিকদের জানান, তাঁর অ্যাকাউন্টে আগে ৮৭ থেকে ৮৮ লক্ষ টাকা ছিল। তাঁর অভিযোগ এখন অ্যাকাউন্টে মাত্র ১ লক্ষ টাকা অবশিষ্ট পড়ে রয়েছে। তবে তিনি এও জানান, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেওয়ার বিমানবন্দর প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ এক চা-শিঙারা বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে ১.২৯ কোটি টাকা জমা হয়েছিল। তিনি জানান, তাঁর সেই অ্যাকাউন্ট থেকেও ১.১৮ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। সন্তোষ নামের ৬০ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধ জানান, পুরোটাই তাঁর জীবনের শেষ সঞ্চয় ছিল। তাঁর ছেলে টাকা তুলতে গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে।

বুধবার, বিপুল সংখ্যক গ্রাহক তাঁদের প্রশ্নের উত্তর ও সমস্যার সমাধান জানতে এই শাখায় ভিড় করেন। অন্য দিকে, গায়েব হয়ে যাওয়া টাকা ফেরত দেওয়া এবং এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শাখার বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ করেন একটি কৃষক ইউনিয়নের সদস্যেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এই সমস্ত বিতর্কিত লেনদেনগুলি কী ভাবে করা হল তা নিয়ে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। এমনকি ব্যাঙ্কের তরফ থেকে কোনও বার্তাও আসেনি গ্রাহকদের কাছে। ফলে চরম আতঙ্কিত গ্রাহকেরা। সেভিংস অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি একই অভিযোগ উঠেছে ফিক্সড ডিপোজ়িট গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও। গ্রাহকদের দাবি, তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে যে পরিমাণ অর্থ থাকার কথা ছিল, তার সঙ্গে বর্তমান ব্যালেন্সের কোনও মিল নেই। তবে, এই টাকা ঠিক কী ভাবে এবং কোথায় স্থানান্তরিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রবল ভাবে ধন্দে রয়েছেন একাধিক গ্রাহক।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএনবি-র আঞ্চলিক কার্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাঙ্ক ম্যানেজার-সহ পাঁচ জন কর্মচারীকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করেছে। নয়ডা পুলিশ কমিশনারেটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৬ জন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত তদারকির দায়িত্ব গ্রেটার নয়ডার সহকারী পুলিশ কমিশনারকে (এসিপি) দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ব্যাঙ্কের দুর্নীতি দমন বিভাগের একটি দল পৃথক ভাবে তদন্ত চালাচ্ছে বলে খবর।

এর আগেও পিএনবি-এর বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে একাধিক বার।উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্ট বা নগদ মজুত রাখার ভল্টে মিলেছে বিপুল পরিমাণ জাল নোট। ভারতের ব্যাঙ্কিং- এর ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পিএনবিরই নাম। ১৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যাঙ্ক ঋণ কোনও জমানত ছাড়াই তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী ও মেহুল চোক্সীর বিরুদ্ধে।

Fixed Deposit Scam bank fraud PNB Fraud Case

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy