E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ঝুঁকির মুখে বহু, দরিদ্র হতে পারেন আরও ২৫ লক্ষ মানুষ!

রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীন ইউনাইটেড নেশন্‌স ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) প্রকাশ করেছে ওই রিপোর্টটি। সেখানে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি বিদেশি মুদ্রার আমদানি হ্রাস, আমদানি-রফতানির ধাক্কা খাওয়া নিয়েও জারি হয়েছে সাবধানবাণী।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ভারতে অনিশ্চয়তার প্রভাব স্পষ্ট। আশঙ্কা আরও বাড়ল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে। যেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এ দেশের বহু মানুষকে ঝুঁকির মুখে দাঁড় করিয়েছে। চড়া তেলের দর, পণ্য পরিবহণ এবং কাঁচামালের খরচ একাংশের ক্রয়ক্ষমতা কমাতে পারে। খাদ্য সুরক্ষা নষ্ট করতে পারে। খরচকে করতে পারে মাত্রাছাড়া। অথচ কেড়ে নিতে পারে রুটি-রুজি। ফলে আরও প্রায় ২৫ লক্ষ পর্যন্ত মানুষ তলিয়ে যেতে পারেন দারিদ্রের খাদে। বিশ্বে তা বাড়বে ৮৮ লক্ষ।

রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীন ইউনাইটেড নেশন্‌স ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) প্রকাশ করেছে ওই রিপোর্টটি। সেখানে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি বিদেশি মুদ্রার আমদানি হ্রাস, আমদানি-রফতানির ধাক্কা খাওয়া নিয়েও জারি হয়েছে সাবধানবাণী। বার্তা, কাঁচামালের অভাবে দাম বাড়তে পারে সার-সহ বিভিন্ন পণ্যের।

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি মানব উন্নয়নে কী রকম প্রভাব ফেলবে, মূলত তা-ই তুলে ধরেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। সেখানে জোরালো ভাবেই বলা হয়েছে, যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব যে সব দেশের উপর সবচেয়ে বেশি পড়বে, তার মধ্যে রয়েছে ভারত। যুদ্ধের পরে ভারতে দারিদ্রের হার ছুঁতে পারে ২৪.২%। যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ২৩.৯%। ধাক্কা খাবে মানব উন্নয়ন সূচকও (এইচডিআই)। বছরের নিরিখে মানব উন্ননের অগ্রগতির ক্ষেত্রে ইরান পিছিয়ে যাবে এক থেকে দেড় বছর। ভারতের ক্ষেত্রে তা ০.০৩-০.১২ বছর। ভাটা পড়বে বিদেশি মুদ্রার আমদানিতে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ৯০.৩৭ লক্ষ ভারতীয়ের বাস। এ দেশের মোট বিদেশি মুদ্রা আমদানির ৩৮%-৪০% তাঁরাই পাঠান। কিন্তু তাঁদের মধ্যে বহু মানুষ কাজ হারাবেন। অনেকের ব্যবসার ক্ষতি হবে। ফলে ভারতে অর্থ পাঠানো কমবে।

রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধের জেরে দেশে মূলত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি সংস্থার কর্মীরা কাজ হারাতে পারেন। এখানকার ৯০% কাজই অসংগঠিত ক্ষেত্রে তৈরি হয়। ফলে সংঘাতের অভিঘাতে দুর্বল হবেন মূলত স্বল্প বিত্তের মানুষেরাই। খাদ্য সুরক্ষা বিঘ্নিত হতে পারে। দেশের কৃষি ক্ষেত্রে খরিফ চাষ শুরু হবে জুন থেকে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা মার খাওয়ার আশঙ্কা। কারণ, প্রয়োজনের ৪৫% সার কিনতে হয় পশ্চিম এশিয়া থেকে। দেশে তৈরি ইউরিয়ার ৮৫% ওই অঞ্চল থেকে আনা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল।

উদ্বেগ

ধাক্কা মানব উন্নয়নে।

বিশ্বে আরও ৮৮ লক্ষ মানুষ পড়তে পারেন দারিদ্রের কবলে।

ভারতে সেই সংখ্যা হতে পারে ৪-২৫ লক্ষ।

দেশে দারিদ্রের হার ২৩.৯% থেকে বেড়ে ২৪.২% হওয়ার আশঙ্কা।

মানব উন্নয়নে অগ্রগতির নিরিখে ভারত পিছোবে ০.০৩-০.১২ বছর।

চাপ বাড়বে দেশে খাদ্য সুরক্ষার উপরে।

কমবে পশ্চিম এশিয়া থেকে বিদেশি মুদ্রা আসা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Poverty in India United Nations United Nations report West Asia

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy