অনুমোদিত সীমার প্রায় আট গুণ বেশি ভাসমান কণা নির্গমন! দূষণ সংক্রান্ত কারণে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হল জনপ্রিয় বিয়ার সংস্থা কার্লসবার্গ ইন্ডিয়ার ব্রুয়ারির রাজস্থানের অলওয়ারের কারখানা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দূষণ সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি ধরা পড়ার পর রাজস্থান রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ বা আরএসপিসিবি কার্লসবার্গের ওই কারখানা বন্ধের নির্দেশ জারি করেছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে সংস্থার তরফে বাধ্যতামূলক ভাবে দূষণ সংক্রান্ত যে ৮৫ শতাংশ তথ্য পাঠানো আবশ্যক ছিল, তার মধ্যে এই ব্রুয়ারিটি মাত্র ৩৫.১২ শতাংশ তথ্য পাঠিয়েছিল বলেও অভিযোগ। উল্লেখ্য, ডেনমার্কের এই সুরা প্রস্তুতকারী সংস্থাটি বাজারে যখন ৭০ কোটি ডলারের আইপিও আনার পরিকল্পনা করছে, ঠিক তখনই এই ঘটনা তাদের জন্য একটি সম্ভাব্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, আরএসপিসিবি ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল কার্লসবার্গ ইন্ডিয়ার অলওয়ারের কারখানাটি চালু করার অনুমতি দিয়েছিল। নির্ধারিত শর্তাবলী মেনে চলার সাপেক্ষে এই অনুমতিটি ২০২৮ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। কিন্তু, মাঝপথেই সরকারের তরফে বিয়ার কারখানাটির কার্যক্রম চালানোর অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন এবং অগস্ট মাসে কারখানাটি বন্ধের বিষয়ে তাদের সুপারিশের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ করা হল। মনে করা হচ্ছে, কারখানাটি বন্ধ হওয়ার ফলে বিয়ার সরবরাহে প্রভাব পড়বে।
আরও পড়ুন:
রাজস্থান রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সংস্থাকে কারখানাটি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক করেছে, এই নির্দেশ না মানলে বায়ু এবং জল দূষণ সংক্রান্ত আইনের আওতায় আরও কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে তাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া, স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকেও কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এল, যখন কার্লসবার্গ ইন্ডিয়া তাদের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। প্রায় এক বছর ধরে আইপিও চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সংস্থাটি। গত ১ অক্টোবর সংস্থাটি ভারতের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সেবি’-র কাছ থেকে তাদের আইপিও সংক্রান্ত নথিপত্র গোপনীয়তা বজায় রেখে জমা দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে কার্লসবার্গ ইন্ডিয়া ৮,৯৩৯ কোটি টাকার বিয়ার বিক্রি এবং ৪৪৩ কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করেছে।